আদ-দ্বীনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট: June 8, 2026 |
inbound5683258053459380873
print news

আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা মঙ্গলবার চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, জনস্বার্থে যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে সরকার বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না।

সোমবার (৮ জুন) সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, তিন দিন টাইম দেওয়া হয়েছে। আমাদের কিছু ধারাবাহিক আইন মেনে কাজ করতে হবে, তারা সময় চেয়েছে।

কোর্টও সময় দেয় অনেক সময়, না? কাজেই আমরা সময়টা না দিলে দে উইল গেট এ বেনিফিট ইন দা কোর্ট।

আমরা দুই দিন সময় দিয়েছি। আমরা আমাদের আইনজীবীদের সাথে আলাপ করে অত্যন্ত সুস্থিরভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান করব। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

কোরবানির ঈদের আগের দিন বুধবার ভোরের দিকে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে থাকা ছয় শিশুর সবাই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে তাদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় দেশব্যাপী ‘গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের’ সৃষ্টি হয়।

ওই ঘটনায় গঠিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, ভিকটিমদের পরিবারবর্গ, চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের বক্তব্য পর্যালোচনা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় তদন্ত কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে ভোর রাত আনুমানিক ৫টা হতে সকাল ৯টার মধ্যে ছয়জন নবজাতকের আকস্মিক মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উক্ত সময়ে দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকা, নার্স/স্টাফ এবং সর্বোপরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলাজনিত বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

৪ জুন ওই প্রতিবেদন প্রকাশের দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আদ-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয় তারা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আইন দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। আর সেই সিদ্ধান্ত রোববারই জানানো হবে।

এদিকে প্রতিবেদন প্রকাশের দিনই আদ-দ্বীন হাসপাতালকে কারণ দর্শাও নোটিস দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তিন দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয় নোটিসে।

কিন্তু নোটিসের জবাব দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে ৪৮ ঘণ্টা সময় চায় আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী মঙ্গলবারের মধ্যে তাদের নোটিসের জবাব দেওয়ার কথা।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির রোববার সাংবাদিকদের জানান, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।

পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক পরিবারকে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ক্ষতিপূরণ ও হাসপাতালের আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “এ ঘটনায় সরকার আইনজীবী নিয়োগ করে সঠিকভাবে প্রতিবেদন এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুপারিশ করবে।”

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের অনুদান হিসেবে ১ লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি) স্যালাইন হস্তান্তর করা হয় এ অনুষ্ঠানে।

ডেঙ্গু মৌসুমের প্রস্তুতি নিয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য স্যালাইন রাখা জরুরি। এখন সরকারের কাছে পর্যাপ্ত স্যালাইন রয়েছে।

দেশের ওষুধ শিল্পের বিকাশ ও বাজার সম্প্রসারণের বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৪০টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশি মুদ্রা অর্জনের এই খাতটিকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারের ‘বিশেষ পরিকল্পনা’ রয়েছে।

এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এজন্য সরকার বেসরকারি ওষুধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর