ধর্মেন্দ্রের পর এ বার নিতিন? ‘আরশোলা’দের পথে হাঁটছে ‘কাঁকড়া’রা! আত্মপ্রকাশেই নেটমাধ্যমে ঝড়, কারা এই ইজেপি?

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন সাফল্য পেতেই আরও একটি দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কোমর বাঁধছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরে এ বার বিপাকে পড়তে পারেন মোদী সরকারের সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। কারণ সমাজমাধ্যম জুড়ে এ বার প্রভাব বিস্তার করছে নতুন এক আন্দোলন। পেট্রলে ইথানল মেশানোর বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছে আরও একটি ‘পার্টি’।
ই-২০ জনতা পার্টি । প্রতীক হিসাবে তারা অন্য কোনও চিহ্ন না বেছে একটি সামুদ্রিক প্রাণীকে বেছে নিয়েছে। সেটি হল কাঁকড়া। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তারা জানিয়েছে ‘‘হ্যাঁ আমরা কাঁকড়া।’’ পেট্রলে ইথানল মেশানোর বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে এ বার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘কাঁকড়া’রা।
ধীরে ধীরে নেটমাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব বৃদ্ধি করছে ই-২০ জনতা পার্টি। আর এই জনপ্রিয়তা বাড়ছে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই। আন্দোলন করার ক্ষেত্রে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ বেছে নিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মিমভিত্তিক, ব্যঙ্গাত্মক কৌশলই। আর তাই প্রতীক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তারা পূর্বসূরির পথ অনুসরণ করেছে। নামের ক্ষেত্রে সরাসরি আন্দোলনের নাম জুড়লেও প্রতীক নির্বাচনে তারা কাঁকড়ার মতো প্রাণীকে বেছে নিয়েছে।
গত ২৬ জুলাই এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবিচারের বিরুদ্ধে কাঁকড়ার মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে ‘ই-২০ জনতা পার্টি’। গত কয়েক ঘণ্টায় একের পর এক পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে এক্স হ্যান্ডল থেকে। তার মধ্যে প্রধান দাবি হল পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর ইস্তফা।
‘ই-২০ জনতা পার্টি’র তরফে সমাজমাধ্যমে পোস্টে বলা হয়েছে, ‘‘গ্রাহকদের সব কিছু জানার অধিকার রয়েছে। জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা প্রয়োজন। এটা কোনও দলীয় বিষয় নয়, বরং জনস্বার্থের বিষয়। আসুন, আমরা একসঙ্গে আওয়াজ তুলি। ইথানল নীতি নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করুন।’’
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা ইথানল মিশ্রণের বিরোধিতা করছেন না। বর্তমানে ব্যবহৃত জ্বালানির জন্য কোনও ভর্তুকিও দাবি করছেন না। তবে তাঁরা জ্বালানি নীতিতে আরও স্বচ্ছতা এবং নিজেদের পছন্দের জ্বালানি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা চান।
ইজেপি দাবি করেছে, দেশের সব খুচরো জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রে ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রলের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি জ্বালানিতে কী পরিমাণ মিশ্রণ রয়েছে তা স্পষ্ট ভাবে জানাতে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি মিশ্রণের খরচ, সুবিধা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সরকারকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এ ছাড়া, মাইলেজ, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা, দূষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের উপর এর প্রভাব মূল্যায়নের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সমীক্ষা পরিচালনারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সমাজমাধ্যম এক্সে ইজেপির অ্যাকাউন্টটি ২০২১ সালে ডিসেম্বরে তৈরি হয়েছে। ৫১ বার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে এটির। ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে অভিজিৎ দীপকের নাম উঠে এলেও ইজেপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কারা সে বিষয়ে কোনও তথ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
রবিবার ভোর থেকে আবির্ভাবের পরে অনলাইনে ই-২০ জনতা পার্টির ‘ফলোয়ার’-এর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। পার্টির নেতৃত্বে কারা, তা স্পষ্ট না হলেও পার্টির তরফে স্বেচ্ছাসেবক, মুখপাত্র নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের ব্যাপকতার পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এ বার কি নিতিন গডকড়ী বিপদে পড়তে চলেছেন? মোদী সরকারের সড়ক পরিবহণমন্ত্রী দীর্ঘ দিন ধরেই ইথানল-মিশ্রিত পেট্রলের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন।
যদিও জ্বালানি সংক্রান্ত নীতির মূল দায়িত্ব পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের। এ নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, তাঁর ছেলের ইথানল উৎপাদন-সংক্রান্ত ব্যবসায়িক স্বার্থ থাকায় নিতিন এই নীতিকে সমর্থন করছেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি। বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, তারা এই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করবে।
পেট্রলের সঙ্গে ইথানলের মিশ্রণ নিয়ে গোটা দেশে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তুঙ্গে। অনেকেই সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। ই-২০ জ্বালানি গাড়ির ইঞ্জিনের উপর কেমন প্রভাব ফেলছে, এতে গাড়ির মাইলেজে কোনও তারতম্য হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন অনেকেই। এর পাল্টা যুক্তি দেখিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছে, ই-১০ বা বিশুদ্ধ পেট্রলের তুলনায় উচ্চ মানের জ্বালানি ই-২০।
দু’সপ্তাহ আগে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল বা ই-২০ জ্বালানি ব্যবহার করলে গাড়ির ‘মাইলেজ’ ৩ থেকে ৫ শতাংশ কমে যায় বলে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্বীকার করে নিয়েছিল। পাশাপাশি মন্ত্রক দাবি করে, পেট্রলে ইথানল মেশানো হচ্ছে বলেই যে জ্বালানির দাম কমবে, এমনটা নয়।
বহু গাড়িমালিকেরই বক্তব্য, ইথানলের অনুপাতের কারণে পেট্রল অনেকাংশে কম কাজ করছে। তার সঙ্গে গাড়ির ইঞ্জিনও নষ্ট হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিমধ্যেই গাড়ির মালিকদের একাংশ মাইলেজ হ্রাস, ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করছেন। রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল ব্যয়বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়ে গাড়ির মালিক ও চালকেরা সন্ত্রস্ত। বিশেষজ্ঞমহলেও উদ্বেগ।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের শীর্ষকর্তাদের দাবি, ভারত লক্ষ্যমাত্রার পাঁচ বছর আগেই যে ভাবে ই-২০ জ্বালানি সফল ভাবে চালু করেছে, তা অন্য কোনও দেশ পারেনি। ২০১৩-’১৪ অর্থবর্ষে পেট্রলে ইথানল ছিল ১.৫৩ শতাংশ। এখন তা ২০ শতাংশ। সরকারের প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় করেছে ই-২০। কৃষকদের আয় বেড়েছে ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা। পরিবেশে কমিয়েছে ৯৫২ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড।
যদিও সরকারের এই দাবিকে মানতে রাজি নয় ইজেপি। ‘ই-২০ জনতা পার্টি’র আবির্ভাবের পাশাপাশি একই বিষয়ে একটি নাগরিক সংগঠন আগামী ৩১ জুলাই দিল্লিতে ‘গাড়ি মিছিল, গাঁধী মিছিল’-এর ডাক দিয়েছে। দিল্লির ট্যাক্সি ও পর্যটক পরিবহণকারীদের সংগঠনও ৪ অগস্ট ‘সংসদ চলো’র ডাক দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, দেশবাসী পেট্রলের দাম দিচ্ছেন। সরকার জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছে। তা হলে ইথানল মেশানো পেট্রল সরবরাহ করা হচ্ছে কেন?




















