প্রধানমন্ত্রী নয়, ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া উচিত মোদির : ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে নরেন্দ্র মোদির ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ হওয়া উচিত।
একইসাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার না করা হলে ভারতজুড়ে আরো বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
অভিজিৎ দীপকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয়, নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে যাওয়া উচিত। তিনি সেই কাজটাই খুব ভালো করছেন। যদি তিনি এতই ভালো ইনফ্লুয়েন্সার হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার ছেড়ে অন্য কাউকে দেশের কাজ করতে দিন।’
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওকে কেন্দ্র করেই এই মন্তব্য করেন দীপকে।
এর আগে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও সংসদে একই প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল বদলালেই জেন-জির সমর্থন পাওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর ক্যামেরার নয়, হৃদয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার।’
লোকসভায় সম্প্রতি পাস হওয়া প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিল নিয়েও সরব হন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তার মতে, শুধু আইন তৈরি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সেই আইন সঠিকভাবে কার্যকর করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দীপকে বলেন, ‘দেশে অনেক ভালো আইন তৈরি হয়েছে। কিন্তু যারা সেই আইন কার্যকর করবেন, তাদের সদিচ্ছা না থাকলে কোনো আইনই কাজে আসবে না।’
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তিন দিন আগে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের কথা বলেছিলেন। মানুষ ভেবেছিল দ্রুত বিচার হবে। কিন্তু প্রথম শুনানিতেই সিবিআইয়ের আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়। তাহলে শুধু আইন বা ঘোষণা করে কী লাভ?’
গত ২০ জুলাই সিজেপির নেতৃত্বে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সংসদ অভিযানের ডাক দেয়। নিট প্রশ্নফাঁস, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং ছাত্রদের আত্মহত্যার ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন হয়। আন্দোলনের পাঁচ দিনের মাথায় ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
তবে আন্দোলনের সময় পুলিশের বলপ্রয়োগ, শিক্ষার্থীদের আটক এবং একাধিক মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে সরকার আন্দোলনকারীদের কয়েকটি দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।
সিজেপির দাবি, সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে, নতুন করে কোনো মামলা করা হবে না এবং সেই বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তাও দেয়া হবে।
কিন্তু দীপকের অভিযোগ, বাস্তবে এখনো অনেক শিক্ষার্থীকে আটক করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সরকারের আশ্বাসের পরেও শিক্ষার্থীদের ‘হয়রানি’ করা হচ্ছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



















