বর্ণিল আয়োজনে সেজেছে শহর, বিশাল গণসংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতি বললেন ‘আমি তোমাদেরই লোক’

আপডেট: September 6, 2026 |
print news

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: বর্ণিল আয়োজন আর উৎসবের মোহে যেন নতুন রূপে সেজেছে ঠাকুরগাঁও জেলা শহর। নিজ জেলার মানুষের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন দেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা জানানো হয়।

IMG 20260906 220956 750 x 430 pixel

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। উপস্থিত লাখো জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বিশ্বকবির ভাষায় উচ্চারণ করেন, “মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক”।

নিজ জেলার মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আরমগীর বলেন, আপনারা আমাকে যা দিয়েছেন, তার ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না। তবে আপনাদের নিকট প্রতিজ্ঞা করতে চাই, আল্লাহ যেন আমাকে তৌফিক দান করেন, আমি যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী যেসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ, ঠাকুরগাঁও নার্সিং কলেজের কাজ শুরু হয়েছে। ঠাকুরগাঁও বিমান বন্দর চালু হবে, কৃষকদের জন্য ইপিজেড চালু দ্রুত হবে।

সব প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়নের পথে। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে বলবো— আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু সংঘাতে কখনো জড়াবেন না।

এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার পাঁচটি উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে নিজ জেলার সন্তানকে একনজর দেখতে সেখানে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।

IMG 20260906 221010 750 x 430 pixel

ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, আমাদের ঘরের সন্তান দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন—এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সবাই এই মুহুর্তের স্বাক্ষী হয়েছেন।

এর আগে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার বেলা ১টার দিকে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে।

সেখান থেকে তিনি সরাসরি সার্কিট হাউসে যান এবং গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন। পরে শহরের সেনুয়া এলাকায় বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির এই সফরকে ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আলোকসজ্জা, বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে।

দুই দিনের এই সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। এদিন শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুর এলাকায় তিনি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

রাষ্ট্রপতির আগমন ও যাতায়াতের পথজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থল ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। নিজ জেলার সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাছে পেয়ে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে এক অন্যরকম গর্ব ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর