জবির দ্বিতীয় গেটের সেই সাদ্দামকে পাওয়া গেছে, অপহরণের চেষ্টা দাবি পরিবারের

দীপ্ত , জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় গেটের সামনে চা-পান বিক্রেতা শিশু সাদ্দামকে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর পাওয়া গেছে।
গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে সে পরিবারের কাছে ফিরে আসে। তবে সাদ্দাম ও তার ছোট ভাইকে রাজধানীর পুরান ঢাকার পাঁচভাই ঘাট এলাকার চার রাস্তার মোড় থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তার মা রত্না।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সাদ্দামের মা রত্না এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।
সাদ্দামের মা রত্না বলেন, “পুরান ঢাকার পাঁচভাই ঘাটের চার রাস্তার মোড় থেকে ওদের দুজনকে একসঙ্গে তুলে নিয়ে গেছিল। পরে বাবুবাজার ব্রিজের ওপর দিয়ে নদীর ওই পারে নিয়ে যায়।”
তিনি জানান, পরে সাদ্দাম ও তার ভাইকে কোথাও চা খাওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাদ্দামের ছোট ভাই একজনকে বিষয়টি জানায় যে, তাদের নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে তুলে আনা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ওই ব্যক্তি তাদের সেখান থেকে নামিয়ে নিরাপদ একটি স্থানে রাখেন।
রত্নার ভাষ্য, এরপর সাদ্দামকে রিকশায় তুলে দেওয়া হয়। রিকশায় করে আসতে আসতে রাত সাড়ে ১২টা বেজে যায়। ওই সময়ই সাদ্দাম নিজ বাসায় ফিরে আসে।
সাদ্দাম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানান তার মা।
তিনি বলেন, রাত পৌনে ১১টার দিকে কোতোয়ালি থানার ওসির নম্বরে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।
সাদ্দামের মায়ের দাবি, তার ছেলের সর্বশেষ লোকেশন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট এলাকায় দেখা গিয়েছিল।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজনের পরামর্শে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে রাত ১২টার পর জিডি নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে জানান তিনি। এর আগেই সাদ্দাম বাসায় ফিরে আসে।
এর আগে সাদ্দাম নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের সামনে ছোট দোকান করে চা-পান বিক্রি করায় সাদ্দাম শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত মুখ।
সাদ্দাম ও তার পরিবারের অসহায়ত্ব নিয়ে এর আগে একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রনেতা তার পাশে দাঁড়ান। তাদের সহযোগিতায় পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটের সামনে ছোট একটি দোকান নিয়ে ব্যবসা শুরু করে সাদ্দাম।
সাদ্দাম ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে তার মা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে অনেক হেল্প করছেন। আল্লাহর দরবারে অনেক শুকরিয়া। নামাজ পড়ে সবসময় আপনাদের জন্য দোয়া করি।”
তবে সাদ্দামকে কারা, কী কারণে এবং কেন তুলে নিয়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সেটি এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। তবে সাদ্দাম বর্তমানে পরিবারের কাছে নিরাপদে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার মা।
এ বিষয়ে জানতে কোতোয়ালি থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম রবিউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।





