মাছ-মাংসের চেয়েও বেশি উপকারী সয়াবিন!

শীত থাকুক আর নাই থাকুক, হাঁটু, কোমর আর ঘাড়ের ব্যথার হাত থেকে নিস্তার নেই। অনেকে ভাবছেন শীত বিদায় নেওয়ার পর ব্যথাও পালিয়ে যাবে। তা নিয়ে কিন্তু যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তবে একটা বিষয়ে সন্দেহ নেই, সয়াবিন খেলে হাড় মজবুত হয়। ফলে এই বাতের ব্যথা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যাবে সারা বছর ধরেই। এমনটাই বলছেন পুষ্টিবিদরা।

আমরা যখন উদ্ধিদ প্রোটিন নিয়ে আলোচনা করি তখন অবশ্যই আসে সয়াবিনের নাম। এটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ই, মিনারেল এবং অ্যামিনো অ্যাসিড সমৃদ্ধ। এই সমস্ত উপাদান শরীরের প্রয়োজনীয় বিকাশে সহায়ক এবং অনেক রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে,হাই ব্লাড প্রেশারের সমস্যা থাকলে প্রতিদিন সয়াবিন খান। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ভরপুর পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সয়াবিন সব বয়সিদের জন্য সমান উপকারী।

রোজ কতটা সোয়াবিন খাওয়া যায়?

সয়াবিন নিঃসন্দেহে প্রোটিনের একটি ভালো উৎস, তবে সয়াবিন বেশি পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতিও করে। এটি বেশি খেলে অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে। এক পরিসংখ্যান বলছে, নারীরা সপ্তাহে ৩ দিন ৩০ থেকে ৫০ গ্রাম সয়াবিন খান। পাশাপাশি খেতে পারেন সয়ামিল্ক। এতে হাড় শক্ত হয়। অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যাকে দূর করবে। পুরুষরা প্রতিদিন ৭০ গ্রাম সয়াবিন খেতে পারেন।

ডায়াবিটিসেও উপকারী

সয়াবিন খাওয়া ডায়াবেটিসেও উপকারী বলে প্রমাণিত। এতে পাওয়া প্রোটিন গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইনসুলিন বাধা প্রাপ্ত হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের অবশ্যই তাদের খাদ্যতালিকায় সয়াবিন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একটা বয়সের পরে, নারীদের অস্টিওপোরোসিস রোগ হয়। এতে তাদের ঘাড় ব্যথা, কোমর ব্যথা, মেরুদণ্ডের ব্যথার মতো সমস্যায় পড়তে হয়। সয়াবিন খেলে তাদের অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করা যায়। তবে, গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই সয়াবিন খাওয়া উচিত।

মানসিক ভারসাম্য ঠিক করে

বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিন মানসিক ভারসাম্য ঠিক করে ও বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়। এটি খেলে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, আয়রন, ফসফরাস, কপার, ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্কের মতো পুষ্টি উপাদান পাবেন। যেগুলো যেকোনো মানবদেহের জন্য অপরিহার্য।

রক্ত চলাচলে সাহায্য করে

সয়াবিনে আছে আইসোফ্ল্যাভেন ও লেসিথিন। দু’টিই জোরালো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এগুলো লো ডেনসিটি কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্যে করে। এলডিএল অর্থাৎ লোডেনসিটি কোলেস্টেরল অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

অকালবার্ধক্য রোধ

সয়াবিনের আইসোফ্ল্যাভেন অত্যন্ত জোরালো ফাইটো ইস্ট্রোজেন। ত্বক ও চুল উজ্জ্বল ও ঝকঝকে রাখতে এই যৌগ সাহায্য করে। সয়াবিনে থাকা লেসিথিন রক্তচাপ স্বাভাবিক রেখে হার্ট ও মস্তিষ্ককে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। এতে অকালবার্ধক্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

অন্যান্য উপকার

সপ্তাহে তিন দিন ৫০ মিলিগ্রাম করে সয়াবিন খেলে এইচডিএল এবং এলডিএলের ভারসাম্য রক্ষা হয়। ফলে হৃদরোগের আশঙ্কা কমে। ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, খাবার পরিপাকের সময় সয়া-প্রোটিন নামে এক যৌগ তৈরি হয়, যা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্যে করে। সয়া-ফাইবার রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে।

সূত্র: এই সময়

বৈশাখী নিউজ/ এপি