ভোজ্যতেলের দাম বিশ্ববাজারে কমেছে

বিশ্ববাজারে দেড় থেকে দুই মাসের ব্যবধানে সয়াবিনের দাম কমেছে ৩২ শতাংশ আর পাম তেলের দাম কমেছে ৪৮ শতাংশ। এর প্রভাবে পাইকারি বাজারে খোলা ভোজ্যতেলের দাম কমলেও বোতলজাত তেলের দাম এখনও সেভাবে কমেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিশোধিত সয়াবিন তেলের দর উঠেছিলো টনপ্রতি ১ হাজার ৯৫০ ডলার। সে সময় প্রতি ডলার ৮৬ টাকা হিসাবে লিটার প্রতি দর দাঁড়ায় ১৫৩ টাকা।

গত বৃহস্পতিবার এই দর নেমে আসে টন প্রতি ১ হাজার ৩১৮ ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ডলারের দরে (৯৩ টাকা ৯৫ পয়সা) লিটার প্রতি দর দাঁড়ায় ১১৩ টাকা। ভোজ্যতেলের ইতিহাসে কখনও এভাবে দরপতন হয়নি।

ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পর থেকে বাজার পড়তির দিকে ছিলো। উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানিকারক দেশগুলোতে মজুত বেড়ে যাওয়া এবং ভোক্তা দেশগুলোর চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় বাজারে এমন দরপতন হচ্ছে।

এদিকে সয়াবিনের চেয়ে বেশি কমেছে পাম তেলের দাম। মালয়েশিয়ার কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বুশরা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভসে গত ৫ মে অপরিশোধিত পাম তেল বেচাকেনা হয় ৭ হাজার ৩৮২ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা লিটার প্রতি প্রায় ১৩৯ টাকায়। বুধবার এ দর নেমে আসে ৩ হাজার ৮৫০ রিঙ্গিত বা লিটার প্রতি ৭১ টাকায়।

পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বিশ্ববাজারের সাপেক্ষে প্রতি ঘণ্টায় দর ওঠানামা করে। বৃহস্পতিবার পাইকারি বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকায়। দুই মাসের ব্যবধানে লিটার প্রতি দাম কমেছে ২০ থেকে ২২ টাকা। পাম তেল লিটার প্রতি ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ১১২ টাকা ও ১২৫ টাকায়।

পাইকারি বাজারে খোলা তেলের দাম কমার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারে। টিসিবির হিসাবে বৃহস্পতিবার ঢাকার বাজারে খোলা সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। পাম তেল বেচাকেনা হয়েছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম ৬ শতাংশ এবং পাম তেলের দাম ১২ শতাংশ কমেছে।

পাম তেলের বড় অংশই খোলা বেচাকেনা হয়। তবে সয়াবিন তেলের বড় অংশ বেচাকেনা হয় বোতলজাত হিসেবে। বোতলজাত তেলের দাম গত ২৬ জুন এক দফায় লিটারপ্রতি ৬ টাকা কমানো হয়েছে। দাম কমানোর পর বিশ্ববাজারে আরও পতন হয়েছে। তবে এখনো কমানো হয়নি।

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও এখনো এ তিন ধরনের দর খুব একটা কমেনি। যেমন বিশ্ববাজারে এখন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দর চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত টন প্রতি ১ হাজার ৩৯০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ ডলার। এবার দেখা যাক দেশে কোন দরে ঋণপত্র খোলা ও আমদানি হয়েছে।

টি কে গ্রুপ এ সপ্তাহে অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করেছে টন প্রতি ১ হাজার ৮৫১ ডলারে। অথচ বিশ্ববাজারে এখন একই তেল আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হলে দর পড়বে ১ হাজার ৪৫০ ডলার। অর্থাৎ ঋণপত্র খুলে দেশে আনতেই বিশ্ববাজারে প্রতি টনের দর পড়ে গেছে ৪০০ ডলার।

মালয়েশিয়ার ‘দ্য এজ মার্কেট’ অনলাইনের ৭ জুলাইয়ের খবরে বলা হয়, পাম তেলের দাম কমে যাওয়ায় ভারত, পাকিস্তানের আমদানিকারকেরা উচ্চ দামে কেনা চুক্তি পর্যালোচনা করতে চাইছেন। চুক্তির পর আমদানি না করা চালানের সংখ্যা বাড়ছে। মূলত হঠাৎ দরপতনে বিপুল লোকসান ঠেকাতে আমদানিকারকেরা এ চেষ্টা করছেন বলে খবরে বলা হয়।

বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় গত অর্থবছরে সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ২৮০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এ ব্যয় ২০২০-২১ অর্থবছরের চেয়ে ৯৬ কোটি ডলার বেশি। বিশ্ববাজারে দরপতনের কারণে তেল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় কমবে। ভোক্তারাও সুফল পাবেন।

বৈশাখী নিউজ/ ইডি