রাজধানীতে শিশু হত্যা মামলায় বাবা রিমান্ডে

রাজধানীর বাংলামোটরে সাফায়েত নামের দুই বছর বয়সী শিশু হত্যা মামলায় বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। আজ ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এরআগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
অন্যদিকে কাজলের পক্ষে রিমান্ড আবেদনে বিরোধিতা করেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার। শুনানীতে তিনি বলেন, কাজলের বাড়ি নিজের নামে লিখিয়ে নিতে চাইছিলেন তার স্ত্রী মালিহা। তা না দেওয়ায় তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। কাজল দুই সন্তানের অন্তত একজনকে নিয়ে যাওয়ার জন্য মালিহাকে অনুরোধ করেছিলেন। সেজন্য তাকে পরে উকিল নোটিসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালিহা শিশু দুটোকে ওই বাড়িতেই ফেলে রাখেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার পর বাংলামোটর লিংক রোডের ১৬ নম্বর বাড়ি থেকে সাফায়েতের কাফন মোড়ানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি তার ভাই চার বছর বয়সী সুরায়েতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় তাদের বাবা কাজলকে। পরে বুধবার রাতে শিশুটির মা মালিহা আক্তার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসার দোতলায় থাকেন কাজল। তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাস খানেক আগে স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। তাই বাচ্চা দুটো বাবার সঙ্গে ছিল। ‘মাদকাসক্ত’ কাজল ছোট ছেলেকে ‘হত্যা করে’ বড় ছেলেকে কোলে নিয়ে দা হাতে ঘরের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছেন খবর পেয়ে বুধবার সকালে ওই বাড়িতে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘ চেষ্টার পর বেলা দু’টার দিকে সঙ্কটের অবসান হয়।
তবে আটক হওয়ার পর কাজল পুলিশের কাছে দাবি করেন, সাফায়াতের মৃত্যু হয়েছে বৈদ্যুতিক শকে, তিনি তাকে হত্যা করেননি। সাফায়াতের গায়ে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকায় ময়নাতদন্তের আগে পুলিশও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।