বৃথা গেল মাহমুদুল্লাহর ক্যারিশমা

সময়: 11:57 am - December 23, 2018 | | পঠিত হয়েছে: 8 বার

ব্যাট হাতে তিনি বাংলাদেশকে অনেকবারই বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি আছে তার। গত বছর চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে অপরাজিত সেঞ্চুরিটি সোনার হরফে লেখা থাকবে বাংলাদেশের ক্রিকেটাতিহাসে! বাংলাদেশের ক্ল্যাসিক ব্যাটসম্যান সেই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ গতকাল শেরেবাংলায় টি-২০তে দেখালেন বোলিং ক্যারিশমা। ৩.২ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ক্যারিবীয় তিন ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান এভিন লুইস, শিমরন হেটমায়ার ও ক্যাপ্টেন রোভম্যান পাওয়েলের উইকেট। একটি রান আউটেও বড় অবদান তার।

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে বোলিংয়ে আনা হয়েছিল ইনিংসের ১০ম ওভারে। তার আগের ৯ ওভারে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ১২০ রান করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিয়মিত বোলারদের যখন তুলোধুনা করে ছাড়ছিলেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা তখন কোনো উপায়ন্তর না দেখে পার্ট টাইমার মাহমুদুল্লাহর হাতে বল তুলে দেন সাকিব। এরপরই পাল্টে যায় খেলার গতি।

ওভারের দ্বিতীয় বলেই দিনের সেরা ব্যাটসম্যান এভিন লুইসের উইকেট তুলে নেন মাহমুদুল্লাহ। পরের বলে হেটমায়ারকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। তবে হ্যাটট্রিক না হলেও রানের চাকা যেন আটকে দেন মাহমুদুল্লাহ। নিজের তৃতীয় ওভারে তুলে নেন রোভম্যান পাওয়েলের উইকেট। তবে লুইসকে আউট করেই কাজের কাজটি করেছেন মাহমুদুল্লাহ। ক্যারিবীয় ওপেনারকে ওই সময় আটকে দিতে না পারলে ক্যারিবীয়দের স্কোর হয়তো আড়াইশোর কাছাকাছিই চলে যেত। লুইসের উইকেট শিকার সম্পর্কে ইনিংস শেষে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘তখন ভয়ঙ্কর রূপে ছিলেন লুইস। খেলার মোমেন্টাম পরিবর্তনের জন্য তার উইকেটটি খুবই দরকার ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাপ্টেন আমার হাতে বল তুলে দেন। আমি কেবল মাত্র লাইনলেন্থ ঠিক রেখে বোলিং করেছি। নিজের সেরা ডেলিভারি দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

দারুণ বোলিং করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসানও। দুজনেই তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। কাটার মাস্টার চার ওভারে দিয়েছেন ৩৩ রান। আর সাকিব দিয়েছেন ৩৭। কাল সবচেয়ে বাজে সময় কাটিয়েছেন পেসার আবু হায়দার রনি। দুই ওভারে দিয়েছেন ৩৯ রান। ৪৮ রানের মাথায় লুইসের ক্যাচও মিস করেছেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজ তার দুই ওভারে দিয়েছেন ২৬ রান।

গতকাল বাইশগজে শুরু থেকেই ঝড় তুলে ছিল ক্যারিবীয়রা। ইনিংসের প্রথম থেকেই ছক্কা-চারের ফোয়ারা ছুটছিল সফরকারীদের ব্যাটে। পাওয়ার প্লের শেষ বলে ক্যারিবীয় ওপেনার এভিন লুইসের ছক্কায় বল গিয়ে পড়েছিল গ্যালারিদের দ্বিতীয় তলায়। ছক্কার দৈর্ঘ্য ১০৭ মিটার। ওই বিশাল ছক্কার আগেই মাত্র ১৮ বলে টি-২০র চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরিটি তুলে নিয়েছিলেন। আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে খেলেছেন ৮৯ রানের দানবীয় এক ইনিংস।

পাওয়ার প্লে যেন ক্যারিবীয়দের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক! প্রথম ম্যাচে তারা এক উইকেট হারিয়ে করেছিল ৯১ রান। ওভার প্রতি ১৫.১৬ রান। দ্বিতীয় ম্যাচে হারলেও তার পাওয়ার প্লেতে করেছিল ৭২ রান। তবে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। আর গতকাল পাওয়ার প্লেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৮৮/১। পাওয়ার প্লেতে সাতটি করে ছক্কা ও চার। লাকি সেভেন!

ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ৭.১ ওভারে দলীয় সেঞ্চুরি করে, এক উইকেট হারিয়ে। ওভারপ্রতি রান ছিল চৌদ্দেরও বেশি। এমন অবস্থা থেকেও দুইশ রান করতে পারেনি সফরকারীরা। এমনকি ২০ ওভার পুরো খেলতেই পারেনি উইন্ডিজ। ১৯.১ ওভারে ১৯০ রানে অলআউট। যদিও ১৯১ রানের টার্গেটটাই চ্যালেঞ্জিং। শেষ পর্যন্ত ১৪০ রানেই আটকে যায় বাংলাদেশ। টাইগাররা ৫০ রানে হেরে যায়।

কালকের ম্যাচে খলনায়ক হয়ে গেছেন আম্পায়ার তানভীর আহমেদ। এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়ে সবকিছু এলোমেলো করে দেন। ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের চতুর্থ ওভারে। কটরেলের বলে ক্যাচ হয়ে যান লিটন দাস। কিন্তু নো বল ডাকেন আম্পায়ার এবং ফ্রি-হিটের সিদ্ধান্ত দেন। পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় নো হয়নি। কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পাল্টানোরও সুযোগ ছিল না। ক্যারিবীয়রাও সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। পরে ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো নিজে হস্তক্ষেপ করায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকার পর খেলা শুরু হয়।

লিটন নটআউট এবং ওই ফ্রি-হিটে ছক্কাও হয়ে যায়। কিন্তু ওই এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর যেন মোরালি নিস্তেজ হয়ে যায় বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। একের পর এক উইকেট বিলিয়ে দিয়ে ম্যাচটা যেন ক্যারিবীয়দের হাতে তুলে দিয়ে আসেন।

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-২০তেও এসেছিল দারুণ সুযোগ। প্রথমবারের মতো কোনো দলের বিরুদ্ধে একসঙ্গে তিন ফরম্যাটে সিরিজ জয়ের হাতছানি ছিল। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় আর হলো না। বৃথা গেল মাহমুদুল্লাহর ক্যারিশমা।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর