ফরিদপুরে পদ্মার পাড়ে বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব

তারেকুজ্জামান, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের পদ্মার পাড়ে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণিল ঘুড়ি উৎসব। ‘চলো হারাই শৈশবে’ এ স্লোগানে শুক্রবার ছুটির দিনে শহরের ধলার মোড়ে এ আয়োজন করা হয়। আকাশে উড়ানো হয় ড্রাগন, হাজারী গোলাপ, পঙ্খিরাজ, চিল, ডিঙি নৌকা, জাতীয় পতাকাসহ নানা রঙের বিভিন্ন আকৃতির অসংখ্য ঘুড়ি।
আবহমান গ্রাম-বাংলা থেকে হারাতে বসেছে সেই চিরচেনা ঘুড়ি উৎসব। তাইতো সেই হারানো ঐতিহ্যকে ফেরাতে ও বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে সপ্তমবারের মতো এ ঘুড়ি উৎসব।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় জেলা সদরের পদ্মাপাড়ের ধলার মোড়ে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ঘুড়ি আমাদের হারিয়ে যাওয়া শৈশব, আমাদের বর্তমান যৌবনের স্বপ্ন। ঘুড়ি আকাশে যখন উড়ে বেড়ায় তখন আমরা শুধু তাকিয়ে থাকি না, এর সৌন্দর্য উপভোগ করি।
তিনি আরো বলেন, পদ্মার চর কেন্দ্রিক এই উৎসবকে স্থায়ী রূপ দিতে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা আছে। ঘুড়ি উৎসবের পাশাপাশি আমাদের হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ খেলাধুলা, বৈশাখী মেলাসহ বিনোদনমূলক উৎসব যাতে ফিরিয়ে আনা যায় সে উদ্যোগ নেয়া হবে। এই সৌন্দর্য ফরিদপুরবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করবো।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মোর্শেদ আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রামানন্দ পাল, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানুজ্জামান, ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান মিন্টু প্রমুখ।
‘চলো হারাই শৈশবে’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পেপারটেক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের সহযোগিতায় ফরিদপুর সিটি অর্গানাইজেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করে।
এ ঘুড়ি উৎসব উপভোগ করেন হাজার হাজার মানুষ। ঘুড়ি উৎসবে যোগ দিতে দুপুর থেকেই বিভিন্নস্থান হতে জনসমাগম হতে থাকে। একপর্যায়ে সেখানে মানুষের ঢল নামে। এ সময় কয়েক শতাধিক প্রতিযোগী বিভিন্ন আকার, আকৃতি ও রং-বেরঙের ঘুড়ি নিয়ে অংশ নেন উৎসবে।
নানা আকৃতির ঘুড়ির মধ্যে ছিল মাছ, ঈগল, প্রজাপতি, লেজযুক্ত ঘুড়ি প্রভৃতি। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের পুরস্কার দেওয়া হয়।
উৎসবমুখর পরিবেশে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ উৎসব আয়োজন। বিকেল শেষে সন্ধ্যার আকাশে ওড়ানো হয় ফানুস।













