দেবরের ছেলের বৌভাতের দিন খুন হলেন চাচি

সোহরাব হোসেন, সিংগাইর প্রতিনিধি :পাশের বাড়ি চলছিল দেবরের ছেলের বৌভাতের অনুষ্ঠান। এরই মধ্যে কখন যেন কে বা কারা চাচিকে খুন করে লাশ ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে গেছে কেউ বলতে পারছে না।
সন্ধ্যায় ছেলে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরে তালা খুলে ঘরে ঢুকে মায়ের নিথর দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পাশেই ছিল হত্যায় ব্যবহৃত সেলিং ফ্যানের বডি।
রোবরার ( ২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর গ্রাম থেকে সাফিয়া আক্তার লক্ষীর (৫৬) লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সাফিয়া আক্তার লক্ষী ওই গ্রামের মৃত দরবেশ আলীর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী।
পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন। লাশের সুরতহালকারী তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রিজওয়ান জানান, সিলিং ফ্যানের বডি দিয়ে আঘাত করায় সাফিয়া ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মাথার ডান কানের উপরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিহতের ছোট ছেলে তরিকুল ইসলাম সোনাই বলেন, আমার কর্মস্থল সাভারের জোড়পুল থেকে বাড়ি ফিরে তালা খুলে ঘরে ঢুকে দেখি উত্তর পাশে তার রুমে আমার মায়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে।
আমার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তরিকুল অভিযোগ করে বলেন, পাশের বাড়ির আছর উদ্দিনের পুত্র সাঈদ, বিল্লাল ও প্রবাসি রফিকুলদের সাথে বসতবাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত মামলা চলে আসছে।
ওই জমির ওপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। এদের কেউ পরিকল্পিতভাবে আমার মাকে হত্যা করতে পারে বলেও জানান তিনি । তবে অভিযুক্ত কাউকে বাড়িতে না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি ।
এদিকে, খুন হওয়া সাফিয়ার বড় ছেলে রতন একজন মানসিক ভারসাম্যহীন। মাঝে-মধ্যেই মায়ের সাথে তার ঝগড়া হতো। তবে মা ও ছেলের ঝগড়ায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ও স্থানীয় অনেকের ধারণা ।
নিহতের ননদ মালেকা আক্তার বলেন, আমার ছোট ভাই কুদ্দুছের ছেলে বাদশাহ মোল্লার বৌভাতের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। ওই বাড়িতে দুইবার গিয়ে দেখি ঘর তালাবদ্ধ। পরে সন্ধ্যায় ভাতিজা সোনাইয়ের চিৎকারে এগিয়ে গিয়ে ঘরের ভিতর রক্তাক্ত ভাবীর লাশ দেখতে পাই।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে তরিকুল ইসলাম সোনাই বাদী হয়ে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে হত্যার অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পরিবারে বইছে মাতম।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি মোঃ জিয়ারুল ইসলাম বলেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে। খুনের ঘটনায় থানায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।



















