নোয়াখালীতে যুবদল নেতা গুলিবিদ্ধ, বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় যুবদলের এক নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ সময় বিএনপির এক নেতাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়।
হামলার ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলে দাবি করেছে জামায়াত।
সোমবার রাতে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে জনকল্যাণ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান।
গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম শাকিল (৩০) ওই ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন ছেলে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শাকিল ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি।
অপর আহত এম আলাউদ্দিন (৪০) ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। তিনি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন বলেন, “মাগরিবের নামাজের পর ছয়ানী বাজারে কৃষক দলের একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে আসছিলেন। এ সময় ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীরা ছয়নী বাজারের কর্মসূচিতে যোগ দেন।
“কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে রাত ৯টার দিকে একই স্থানে আবার হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় শাকিল গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে আমিসহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। তবে হামলাকারীরা আমার মাথা ও পায়ে কুপিয়ে জখম করে।”
পরে নেতাকর্মীরা শাকিল ও আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে শাকিলকে প্রাথমিক চিকিৎসার দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহরিয়ার বলেন, “শাকিলের বুকের বামপাশ বিদ্ধ করে গুলি ফুসফুসে চলে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
হামলার ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের কর্মীদের দায়ী করে নোয়াখালী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান বলেন, “জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নোয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন বলেন, “ছয়ানীতে হামলার ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ। তারা অযথা এর দায় আমাদের দলের ওপর চাপানো চেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
ওসি শামসুজ্জামান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে হামলাকারীদের দলীয় পরিচয় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।















