এক গার্মেন্টই নিয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকা: সাখাওয়াত

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের মূল্যায়নের আলোচনায় শ্রম উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমরা পলিটিকাল ইকোনমির কথা বলছি; এই একটি গার্মেন্ট কোম্পানি মোট ৪৮ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা নিয়েছে, বিশেষ করে ১৬টি ব্যাংক ও ৭টি ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান থেকে। কোথায় সেই টাকা আছে, কেউ জানে না। আমরা চেষ্টা করছি টাকা ফিরিয়ে আনার।”
তিনি আরও বলেন, “একটা ব্যাংকের নাম নিচ্ছি — জনতা ব্যাংক। এখান থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। জনতা ব্যাংক কীভাবে গার্মেন্টে অর্থায়ন করেছে, তার সদুত্তর পাইনি।”
শ্রম উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, দেশের ব্যাংক খাত ও নিয়ন্ত্রকদের দায় বেশি। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ তিনজন পলাতক রয়েছেন।”
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাঠামো বিগত আমলে ভেঙে পড়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নাজুক, পুলিশ কাজে ফিরতে অনাগ্রহী ছিল। এই পরিস্থিতিতেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের চেষ্টা শোনা যাচ্ছে না, গালি খাচ্ছি, ইউটিউবে নানা কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু আমরা চুপচাপ সহ্য করছি। যদি ফেইলিউর হয়ে থাকে, এটা শুধু আমার না, আপনাদেরও ফেইলিউর।”
শ্রম উপদেষ্টা সফলতার দিকেও ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “এখন সবাই খোলাখুলি কথা বলতে পারছে, কাউকে গুম বা খুন করা হচ্ছে না।”
তিনি শ্রমিক বেতন না দেওয়ার বিষয়েও বলেন, “কিছু ব্যর্থ মালিকের সম্পত্তি মন্ত্রণালয়ের কাছে আছে, তাদের দলিল নেওয়া হয়েছে, বিক্রি করে শ্রমিকদের টাকা ফেরত দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
সাখাওয়াত বলেন, “আমাদের আসার আগে শ্রমিকরা বেতন পেত না, কিন্তু কেউ কথা বলতে সাহস পেত না। গুম, জেল, গুলির ভয়ে ৪২ জন শ্রমিক নেতা ছিলেন জেলে, এখন মাত্র একজন রয়েছেন।”
