ঢাকা কলেজের শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের ১১ দফা দাবি

আপডেট: October 15, 2025 |
inbound934985544458480927
print news

আবিদ হোসেন, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি: ঢাকা কলেজের শিক্ষক ও উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, টিসার্স লাউঞ্জে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং একই সঙ্গে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশে প্রশাসনিক থেকে একাডেমিক সর্বস্তরে শিক্ষা ক্যাডারের ন্যায্য অবস্থান নিশ্চিত ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর স্বার্থ সংরক্ষণের দাবিতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যরা আজ কালো ব্যাজ ধারণপূর্বক দিনব্যাপী কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর)সকল সরকারি কলেজে কর্মবিরতি পালন হয়।এই সময় সকল ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল।

এই প্রেক্ষাপটে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের ১১ দফা দাবি উত্থাপিত করে।তাদের দাবিগুলো হলো :

১। ঢাকা কলেজের শিক্ষক ও উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাবী ছাত্রদের উপর হামলাকারী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইডেন ও বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের ছবি শেয়ার করে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কুৎসিত ট্যাগিং, গালাগালি এবং অপপ্রচারের মাধ্যমে হেনস্থাসহ সকল অপকর্মে জড়িতদেকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। – এ দাবি আমাদের সর্বোচ্চ ও প্রথম দাবি।

২। সাত কলেজের নাম বা কাঠামো পরিবর্তন করে কোনো অনুষদে বা স্কুলে রূপান্তর করা যাবে না। কলেজ কাঠামোর মৌলিক রূপ ভেঙে অনুষদভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তাব সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

৩। কলেজের লোগোসহ স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি স্ব-স্ব কলেজের নামে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে এসব সম্পদের মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে না।

৪। বর্তমানে পাঠদান করা হয় না—এমন নতুন কোনো বিষয় সংযোজন করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না।

৫। বিদ্যমান কোনো বিষয় বিশেষত আরবি ও ইসলাম শিক্ষা, বাদ দেওয়ার চেষ্টা ইসলামবিদ্বেষের শামিল এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

৬। প্রস্তাবিত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস অবশ্যই পৃথক স্থানে প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং এই বিশ্ববিদ্যালয় সাত কলেজের একাডেমিক অভিভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে।

৭। সাত কলেজকে কোনো পরীক্ষামূলক বিশ্ববিদ্যালয় মডেলের অংশে পরিণত করা যাবে না। সাতটি সরকারি কলেজ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে এবং সকল পদে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

৮। সাত কলেজ সরকারের বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর কাঠামোগত পরিবর্তনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত গ্রহণ ও যৌক্তিকতা যাচাই করা আবশ্যক। এজন্য প্রস্তাবিত খসড়া অধ্যাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রিভিউ কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করতে হবে।

৯। ঢাকা কলেজসহ পাঁচটি কলেজ বহু বছর ধরে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অসামান্য সাফল্য অর্জন করে আসছে। তাই উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না।

১০। সাত কলেজে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র ইতোমধ্যেই সংকুচিত করা হয়েছে। বিশেষত ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ বহু বছর ধরে নারীদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করে আসছে। প্রস্তাবিত কাঠামো নারী শিক্ষার ক্ষেত্র আরও সংকুচিত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

১১। সাত কলেজে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীদের চাকুরী বা অন্য কোন স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা যাবে না।

উক্ত দাবিগুলো দ্রুত পূরণের আহবান জানিয়েছে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন।

inbound6102352803396575071

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর