জাবিতে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

আপডেট: November 1, 2025 |
inbound4042812325288713272
print news

আমিনা হোসাইন বুশরা, জাবি প্রতিনিধি:জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নবীন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বরণ এবং দিকনির্দেশনা দিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাবি শাখার উদ্যোগে ‘নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২৫’ আয়োজিত হয়েছে।

শনিবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এই বর্ণাঢ্য নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন ব্যাচকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতেই শিবিরের এই আয়োজন। এতে ৫৪ ব্যাচের প্রায় ১৪ শত শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম।

বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি, আবু সাদিক কায়েম।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে সঠিক দিকনির্দেশনা, ক্যারিয়ার গাইডলাইন এবং শিক্ষামূলক নানা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। এছাড়াও, সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীর সংগীত পরিবেশন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মুখরিত হয়েছিল পুরো অনুষ্ঠান।

নবীনবরণ বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাবি শাখার সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪ ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনার জন্যই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কর্তৃক আয়োজিত হয়েছে নবীন বরণ অনুষ্ঠান ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৫।

ক্যাম্পাসের প্রাণভোমরা হলো নবীন ব্যাচ, সেই নবীন ব্যাচদেরকে কেন্দ্র করে, তাদের ওপর জুলুম, নিপীড়ন করে বিগত সময়ে অন্যান্য দলের রাজনীতি আবর্তিত হতো যা অত্যন্ত লজ্জাকর ও নিন্দনীয় বিষয়।

আমরা নিপীড়নের রাজনীতির এই সিলসিলা ভেঙে দিতে চাই, তাই ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণের মাধ্যমে আমরা নবীন শিক্ষার্থীদেরকে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

আশা করি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেই যথাযথ গাইডলাইনের মাধ্যমে একটি উপযুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার মাধ্যমে নীতি নৈতিকতাকে সমুন্নত রেখে তারা দেশ ও জাতির উত্তরোত্তর সাফল্যে ভূমিকা রাখবে।

নবীন ব্যাচের শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসের শুরুতেই ছাত্রশিবিরের এমন বর্ণাঢ্য আয়োজনে নবীনবরণ, আমাদেরকে সম্মানিত করেছে।

এটা আমাদের জন্য ক্যাম্পাসের অন্যতম বড় পাওয়া হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে অনেক বেশি তথ্যবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে যা উদ্দীপনামূলক ছিল।

সাইমুমের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মুখরিত ছিলাম পুরোটা সময়। এমন বর্ণাঢ্য আয়োজনের জন্য শিবিরকে ধন্যবাদ।

ডাকসুর ভিপি এবং শিবিরের প্রকাশ ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম বলেন, “বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে ইতোমধ্যেই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন; আপনারাই আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবেন, ইনশাআল্লাহ।

প্রথম বর্ষ থেকেই একাডেমিক পড়াশোনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজে যুক্ত হয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করবেন।

ভালো বন্ধু সার্কেল গড়ে তুলবেন, সামগ্রিক বিষয়ে বই পড়বেন, রিপোর্ট রাখবেন, বিসিএসের ইচ্ছা থাকলে প্রথম বর্ষ থেকেই ওই কেন্দ্রিক বই পড়বেন, প্রয়োজনীয় জব স্কিল অর্জন করবেন, আইইএলটিএস, জিআরই অথবা একটি বিদেশি ভাষা রপ্ত করবেন।

তাহলে আপনাকে চাকরির পিছনে ঘুরতে হবে না, চাকরি আপনার পিছনে ঘুরবে। এছাড়া অবশ্যই প্রত্যেকে প্রত্যেকের ধর্মীয় চর্চা করবেন।

আরেকটি বিষয়– আমাদের সবাইকে খুনি হাসিনা ও ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। খুনি হাসিনা ও তার দোসরদেরকে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলাতে হবে।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ এদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। এর সন্ত্রাসী দল, এরা ফ্যাসিবাদ কায়েম করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র কাঠামোকে ধ্বংস করেছে।”

শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন,”শিবির শুধু একটি ছাত্রসংগঠনই নয় বরং একজন আদর্শবান দক্ষ, সৎ ও মেধাবী মানুষ তৈরির কারখানা।

ছাত্রশিবির কখনোই গুপ্ত ছিল না, বরং আমাদেরকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেয়নি। আদর্শিক কারণে ছাত্রশিবিরের সাথে না পেরে অনেকে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দিয়েছে কিন্তু সফল হয়নি।

আজ শিক্ষার্থীদের সামনে সত্য উন্মোচিত হয়েছে। ফলে তারা বাংলাদেশের বড়ো চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেলকে ভূমিধস বিজয়ী করেছেন।

আগামী দিনেও আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে চাই, তাদের পাশে থাকতে চাই, ইনশাআল্লাহ।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর