বগুড়ার শিবগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের আল আমিন এখন বিসিএস ক্যাডার

আপডেট: December 1, 2025 |
inbound5403097358674734435
print news

শাহজাহান আলী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল বাকসন গ্রামের কৃষক ছামছুল ইসলাম রঞ্জুর ছেলে মোঃ আল আমিন ইসলাম প্রবল ইচ্ছা শক্তি, ধৈর্য আর অধ্যবসায় দিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ৪৫তম বিসিএসে।

সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারে। এ নিয়ে পরিবার ও প্রতিবেশিদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা।

আল আমিন বাড়ি থেকে হেঁটে ৬-৭ কিমি দূরের স্কুলে যেতেন পড়তে। নিজের পড়াশুনার খরচ জোগাতে করেছেন ৪-৫ টি টিউশনি।

চাকুরী ও হাসপাতালে অসুস্থ স্বজনের পাশে থেকেও নিয়েছেন বিসিএসের প্রস্তুতি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রাখতেন মার্ক করে। কোন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতাই দমিয়ে রাখতে পারেনি তাকে।

ছোট বেলা থেকেই অদম্য মেধাবী আল আমিন পল্লী এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেনীর বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেনপুল বৃত্তিসহ উপজেলায় ১ম স্থান, ৮ম শ্রেনীতে বৃত্তি অর্জন, এসএসসি তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন।

পরবর্তীতে রংপুর সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ তম ব্যাচে পরিসংখ্যান বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স সম্পূর্ণ করেন।

আল আমিন জানান, ছোট বেলা থেকে বাবা, মা এবং ভাই তাকে সব সময় অনুপ্রেরণার জুগিয়েছে। বড় ভাই মেডিকেলের শিক্ষার্থী থাকাকালীন সময়ে প্রত্যেক সপ্তাহে বাড়ি এসে খোঁজ খবর নিতেন গাইড দিতেন।

তিনি বলেন তার বাবা গ্রামের সাধারন পরিবারের হয়েও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন।

ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ায় স্বপ্ন ছিল কেন এমন প্রশ্নের জবাবে আল আমিন বলেন, ছোট বেলায় পার্শ্ববর্তী গুজিয়া হাইস্কুল মাঠে কোভিডকালীন সময়ে ক্রিকেট খেলার সময় হঠাৎ মাঠে ম্যাজিস্ট্রেট প্রবেশ করে এমন সময় সবাই তাকে সম্মান করল এটা দেখে তখন থেকেই ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ায় স্বপ্ন ছিল তার।

তিনি বলেন কর্মব্যস্ততার কারনে নিয়মিত পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন ছিল তখন নিজেকে হতাশ মনে হয়েছিল কিন্তু হাল ছাড়েননি।

কাঙ্খিত রেজাল্টের পর অনুভূতি সম্পর্কে বলেন, ‘এটা বলে বুঝানোর মত নয়। আনন্দে চোখে এসেছিল কান্না, প্রথমে জানিয়েছেন মা’কে।

মোবাইলে আনন্দে কেঁদেছেন মা-ছেলে। ভবিষ্যতে দেশের জন্য ভাল কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

তরুন প্রজন্মের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, জীবনে সফলতার জন্য পড়াশুনা অধ্যাবসায়ের কোন বিকল্প নেই। তরুন প্রজন্মের জন্য বোর্ডবই পড়ার এবং বিভিন্ন ডিভাইস কম ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মানিক বলেন, প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকা থেকে বিসিএস প্রশাসনে সুপারিশ প্রাপ্ত হওয়ায় আমরা ইউনিয়নবাসী আনন্দিত।

ইচ্ছা থাকলে অনেক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও ভাল কিছু করা যায় এটি তার উদাহরণ।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর