ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির পরিচয়

আপডেট: December 13, 2025 |
inbound7031990438536404778
print news

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা।

গুলিবর্ষণের শিকার হয়ে বর্তমানে তিনি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে থাকা হাদির ওপর এই হামলা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

শরিফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১০–১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার জন্ম ঝালকাঠির নলছিটিতে। বাবা ছিলেন মাদরাসার শিক্ষক।

নেছারাবাদ কামিল মাদরাসায় তার শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে হাদি সবার ছোট।

কর্মজীবনে হাদি ইংরেজি শেখার কোচিং সেন্টার সাইফুরস–এ শিক্ষকতা করেছেন। সর্বশেষ তিনি ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স নামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর শরিফ ওসমান হাদির হাত ধরে গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়—সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ।

গত নভেম্বর মাসে নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে হাদি দাবি করেন, দেশি–বিদেশি অন্তৃত ৩০টি ফোন নম্বর থেকে তাকে ফোন ও মেসেজ দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তার বাড়িতে আগুন দেওয়া এবং মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি লেখেন। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ সমর্থকরা তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে। ‘জীবননাশের আশঙ্কা’ সত্ত্বেও তিনি ‘ইনসাফের লড়াই’ থেকে পিছিয়ে যাবেন না বলেও মন্তব্য করেন।

শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে হামলায় জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানান, মাথায় গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

তার বাম কানের ওপর দিয়ে ঢুকে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বুলেট মস্তিষ্কের কাণ্ড বা ব্রেন স্টেম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচিত। তার ভাষায়, আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এই মুহূর্তে নতুন কোনো ইন্টারভেনশন করা হবে না।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর