বিজয়ের ৫৫ বছরে বাংলাদেশ

বিজয়ের ৫৫ বছরে পা রাখলো বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে বাঙালি জাতি। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে উদযাপিত হবে দিনটি।
দিনের শুরুতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের।
পোষের মিষ্টি রোদে উদ্ভাসিত প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে আছে বিজয়ের আনন্দধারা। ফসলের প্রাচুর্য আর মুক্তির স্মৃতি যেন একসূত্রে গাঁথা। একাত্তরের এই দিনেই বাংলাদেশ স্পর্শ করেছিল স্বাধীনতার মাইলফলক।
বিজয়ের ৫৫ বছরে দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্ম সাম্য, মানবিকতা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছে। একইসঙ্গে অগ্রজদের প্রত্যাশা—রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা থেকে আধিপত্যবাদ দূর করে সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলতে হবে একটি নতুন বাংলাদেশ।
এবারের বিজয় দিবসের আয়োজনে স্মরণ করা হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদেরও। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন গণতান্ত্রিক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রত্যাশা প্রকাশ পাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষের কণ্ঠে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র মানুষের ওপর গণহত্যা শুরু করলে প্রতিরোধ সংগ্রামের সূচনা হয়। সেই রাতেই স্বাধীনতার ঘোষণায় ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। যুদ্ধের প্রশিক্ষণ বা আধুনিক অস্ত্র না থাকলেও জীবন বাজি রেখে শত্রুর মোকাবিলায় অবিচল ছিলেন তারা।
দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি আর বিপুল ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ, উড়তে থাকে লাল-সবুজের পতাকা। এই বিজয়ের দিনে জাতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বিভাজন ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রাম অব্যাহত ছিল, যার ধারাবাহিকতায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এক নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা বার্তায় দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একইসঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকারকারী মা-বোনদের সশ্রদ্ধ সালাম জানান তিনি।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও বিজয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছে।
বিজয় দিবস ঘিরে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা, বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে।













