বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ড, টানা ৯ বছর শীর্ষে

আপডেট: March 19, 2026 |
unnamed 1
print news

তারেকুজ্জামান, ফিনল্যান্ড: উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড আবারও বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী, টানা নবমবারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দেশটি।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, নাগরিকদের পারস্পরিক আস্থা, শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কারণে এই অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ফিনল্যান্ড।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশের সুখ নির্ভর করে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নয়; বরং মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাও বড় ভূমিকা রাখে। ফিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই এই ক্ষেত্রগুলোতে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে।
দেশটিতে দুর্নীতি তুলনামূলক কম এবং নাগরিকদের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা অনেক বেশি। এছাড়া, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য এবং প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ফিনিশদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হয়।

নর্ডিক দেশগুলোর আধিপত্য:
২০২৬ সালের তালিকায় নর্ডিক দেশগুলোর আধিপত্য আবারও স্পষ্ট। ফিনল্যান্ডের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক। এরপর রয়েছে আইসল্যান্ড, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস। শীর্ষ দশে আরও জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, ইসরায়েল ও কোস্টারিকা।

তরুণদের মধ্যে সুখ কমার প্রবণতা:
তবে রিপোর্টে একটি উদ্বেগজনক দিকও উঠে এসেছে। তরুণদের মধ্যে সুখের মাত্রা কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের প্রভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে বেকারত্বের হারেও শীর্ষে রয়েছে ফিনল্যান্ড। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বেকারত্বের এই প্রভাব সামগ্রিক সুখের সূচকে তেমন প্রভাব ফেলেনি। কারণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান এখানে বড় ভূমিকা রাখে।

প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া:
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুব এই অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
“এর পেছনে কোনো জাদুকরী রহস্য নেই। একটি সমাজ যদি স্বাধীনতা, সমতা ও ন্যায়বিচারের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, তাহলে সেটাই মানুষের সুখ নিশ্চিত করে।”

বাংলাদেশের অবস্থান:
অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো অনেক নিচের দিকে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় ১৩০-এর কাছাকাছি। যদিও দেশটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি রয়েছে, তবে সামাজিক আস্থা, নিরাপত্তা এবং মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর