আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের ফের হামলার অভিযোগ, নিহত ৭

আপডেট: April 30, 2026 |
inbound9042562897387981947
print news

মাসখানেক বিরতির পর আবার অশান্ত আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত। আফগানিস্তানে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে আফগান সীমান্ত প্রদেশে পাকিস্তানের এই হামলায় ৭ জন নিহত এবং ৮৫ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আফগান কর্মকর্তারা।

এই কর্মকর্তাদের দাবি, সোমবার আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশের রাজধানী আসাদাবাদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাড়িঘরে মরটার ও রকেট হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।

কুনার প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুজাফফর মুখলিস জানান, সীমান্ত এলাকা এবং আসাদাবাদ থেকে ৭ জনের মৃতদেহ এবং ৮৫ জন আহতকে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা সবাই সাধারণ মানুষ।

‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা লিখেছে, চলতি মাসের শুরুতে চীনের মধ্যস্থতায় আফগানিস্তান-পাকিস্তান শান্তি আলোচনা হওয়ার পর এটিই প্রথম বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা।

আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, আসাদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় এই হামলা চালানো হয়।

কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পরিচালক নাজিবুল্লাহ হানাফি নিহতের সংখ্যা ৭ বলে নিশ্চিত করেছেন। ওদিকে, আহতদের মধ্যে নারী, শিশু এবং সৈয়দ জামালউদ্দিন আফগান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা রয়েছেন বলে জানান তিনি।

আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলায় প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ ‘স্পষ্টতই মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান।

দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “পাকিস্তানের অভিযান সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। সৈয়দ জামালউদ্দিন আফগান বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও হামলা চালানো হয়নি। এই দাবি ভিত্তিহীন ও ভুয়া।”

পাকিস্তানের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) -এর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আফগানিস্তান থেকে সীমান্তে হামলার পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত শুরু হয়। এতে কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

এপ্রিলে চীনের উরুমছিতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর পরিস্থিতি শান্ত হবে বলে আশা করা হয়েছিল। চীন ছাড়াও কাতার, তুরস্ক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।

এর আগে গত ১৭ মার্চ কাবুলের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪ শতাধিক সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছিল আফগানিস্তান। যদিও পাকিস্তান সেই বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির দাবি অস্বীকার করে।

গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলায় সংঘাত কিছুটা কমেছিল। তবে সোমবারের এই হামলার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া শান্তি প্রক্রিয়া আবারও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ৯৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর