আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

আপডেট: March 26, 2026 |
inbound6142828621272532920
print news

আজ ২৬ মার্চ বাংলাদেশের গৌরবময় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনা দিবস আজ। ২৬ মার্চ বাংলাদেশের মানুষের আত্মপরিচয়ের ভিত্তি হয়ে আছে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধের শুরুটা হয় এই দিনে। এরপর ৯ মাসের প্রাণপণ যুদ্ধের পর অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের লালসবুজ পতাকা।

জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। যাদের ত্যাগ আর রক্তে অর্জিত এই স্বাধীন ভূখণ্ড সেই বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন আজ।

আজ সারা দেশে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে ৫৬ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। পুরো জাতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করছে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর সেনানীদের।

শ্রদ্ধার ফুলে আজ ভরে উঠছে স্মৃতির মিনার সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজনে গৌরবের দিনটি পালন করছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মোসাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এবার ভিন্ন এক পরিবেশে পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র নেতৃত্বাধীন সরকার।

বিএনপি সরকারের পথ চলার শুরুতে আজ উদযাপিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।

এই দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্রনিবন্ধ ও সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করেছে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে দেশের শান্তিসমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে আজ বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন।

তিনি আরও বলেনএই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদেরযাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধানির্যাতিতা মাবোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহসআত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীনগণতান্ত্রিকশান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্যপারস্পরিক সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।’

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেনসবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

একটি উন্নতসমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর