গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেটে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

ফাহিম আহমদ, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেট মহানগর। শনিবার বিকালে নগরের কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশ ও পরে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সংসদে দায়িত্বশীল, গঠনমূলক ও সৃজনশীল ভূমিকা রাখব।
দেশ এবং জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে আমরা প্রতিবাদ করব, সংসদে প্রতিরোধ করব৷ এর পাশাপাশি রাজপথও আমাদের জন্য খোলা থাকল। জনগণের পক্ষে সংসদ থেকে রাজপথে থাকবে ১১ দলীয় ঐক্য।
সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিী দিকে লক্ষ্য রাখুন৷ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হচ্ছে।
আমাদের লক্ষ লক্ষ শ্রমিকরা সেখানে থাকেন। রেমিট্যান্স প্রবাহ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য হতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আসে৷
তিনি বলেন, ভারতে গিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শেখ হাসিনার মত খুনি থাকতে হাদির খুনিদের আনার দরকার ছিল না।
সেখানে আইন আছে, ভারত দিতে বাধ্য। আমাদের সাথে বন্দী বিনিময় চুক্তি আছে। অতীতে যারা ভারতের তাবেদারি করেছেন তাদেরকে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। এই চ্যাপটার ক্লোজড৷ আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ হয়ে গেছে, শিক্ষা নেন।
জুবায়ের আরও বলেন, গণ রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। গণভোটের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন৷ স্বৈরশাসন মুক্ত দেশ গঠন করার জন্য এদেশের মানুষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অবিলম্বে গণভোটের রায় কার্যকর করে যে সমস্ত মৌলিক বিষয়ের সংস্কার আমরা প্রস্তাব করেছি- জাতীয়ভাবে যেগুলো গণভোটে পাস হয়েছে অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
স্বৈরাচার হওয়ার কোন কাজ থাকলে এখনই সেটাকে ত্যাগ করুন। জনগণ প্রস্তুত আছে। জনগণ রাজপথে নামবে।
কোন সরকার বেশি বাদী হওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ রাজপথে আবারো বুকের রক্ত দিয়ে প্রতিহত করবে ইনশাল্লাহ। আমাদের এই সংগ্রাম শান্তিপূর্ণ। আমরা আশা করবো এই সরকারের বোধোদয় হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা আপনাদেরকে আজকে বোঝাচ্ছেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। হাসিনা এর চেয়ে বেশি পেয়েছেন। মাত্র দুই মাসের মাথায় তাকে পালাতে হইছে।
সবকিছু রেখে পালিয়েছেন। কেউ তাকে রক্ষা করতে পারেন নাই। ইতিহাসের সেই নির্মম, নিষ্ঠুর উদাহরণগুলোকে সামনে রেখে আমরা অনুরোধ জানাবো এই সরকার যাতে পথচলাকে ঠিক করেন।
ভিন্ন পথে চললে জনগণ রাজপথে তাদেরকে সোজা করে দেবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজলের সভাপতিত্বে ও সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা এমরান আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সিলেট মহানগর আমীর মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার, বাংলাদেশ লেবারপার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, বিডিপি সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদ ও সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল।
বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ১১ দলের অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন|
সভায় বক্তাগণ বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ মানবিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। এ জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার।
জনপ্রত্যাশিত এই সংস্কার প্রক্রিয়াটি কেবল সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন করতে হবে।
কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় গিয়ে ফের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা শুরু করেছে।
৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি একদলীয় শাসন ব্যবস্থার পথে হাঁটছে। যা জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল।
বিএনপি সরকার গায়ের জোরে রাষ্ট্র সংস্কারের পথ রুদ্ধ করছে। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আজ জনস্বার্থের পরিপন্থী।
তারা সংসদে একের এক গণবিরোধী বিল পাসের মাধ্যমে দেশে ফের ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সভাপতির বক্তব্যে এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল বলেন, বিএনপি সরকার গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও বিচার বিভাগ সংস্কার অধ্যাদেশসহবেশ কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে দেশকে আবারো ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার গণবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি।



















