জাবিতে ডোরস ফর ইনক্লুসিভ সোসাইটির যাত্রা শুরু

আমিনা হোসাইন বুশরা, জাবি প্রতিনিধি:জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনকে সহজ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে ‘ডোরস ফর ইনক্লুসিভ সোসাইটি (ডিআইএস)-এর জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি শাখার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, স্মার্টফোন ও সাদা ছুড়ি বিতরণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মাননাও প্রদান করা হয়।
এছাড়া, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত কোর্স চালু করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, জাকসু প্রতিনিধি, ডিআইএস কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি ও জাবির বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকগণ।
অনুষ্ঠানে জাকসু শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু ওবায়দা ওসামা বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শ্রুতিলেখক নির্ধারণ ও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সহজ করতে বিভাগীয় সভাপতির অনুমতির বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপন এবং নতুন লাইব্রেরিতে তাদের জন্য একটি বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপনের জন্য দাবি জানিয়েছি। এছাড়াও অন্যান্য যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে জাকসু সহযোগী ভূমিকা পালন করবে।”
জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকে নির্বিঘ্ন করতে ফুটপাত নির্মাণ, পুরোনো ভবনে লিফট স্থাপন, নতুন লাইব্রেরিতে একটি বিশেষায়িত ইউনিটে ল্যাব চালু এবং বাসে নির্দিষ্ট সিট বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।
এছাড়াও, একটি বিশেষায়িত মাঠ চালুর ব্যাপারে কাজ করছি এবং শ্রুতিলেখকের বিষয়টি আজকেই ভিসি স্যারের মাধ্যমে সমাধান হবে আশা করছি।”
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আফসানা হক বলেন, “শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাও নৈতিক দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটপাত, অনুষদ, লাইব্রেরি ও আবাসিক হলগুলোকে তাদের জন্য আরও ব্যবহারোপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি এতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “আত্মারশক্তি দৈহিক শক্তির চেয়ে বেশি।
যাদের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আছে তারা অপেক্ষাকৃত আত্মার শক্তিতে বেশি বলীয়ান। উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চলাচল ও বাসস্থানকে নির্বিঘ্ন করতে কাজ করে।
কিন্তু আমাদের দেশে জনগণের করে চলা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নির্ধারিত ফান্ডের অভাবে সবকিছু সম্ভব হয়ে ওঠে না।
শ্রুতিলেখকের বিষয়টি আগামী একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার পাশাপাশি একটি বিশেষায়িত মাঠ চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করছি।”




















