বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যার শিকার নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে বৃষ্টির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডকে ‘করুণ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা’ বর্ণনা করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৃষ্টির পরিবার যে গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা সরকার উপলব্ধি করে। এখানে বৃষ্টির বাবা, মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত আছেন। আমি বৃষ্টির পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং বৃষ্টির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, ফ্লোরিডা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করছে। সরকার আশা করে, বৃষ্টির পরিবার এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার পাবে।
এর আগে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। পরে বিমানবন্দরে তার বাবা-মা ও স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করেন।
বৃষ্টির মরদেহ গ্রহণ করতে তার বাবা–মা, মামাসহ পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরে উপস্থিত হন।
নিহতের নানা আব্দুল আলী বলেন, মরদেহ গ্রহণের পরপরই সেটি মাদারীপুরে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানেই বাদ আসর সুলতানা বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে দাদা–দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
একই ঘটনায় নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে দেশে পৌঁছায়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক জামিল আহমেদ লিমন যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
অন্যদিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল এই দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারপর পুলিশ বৃষ্টির পরিবারকে ফোনে জানায়, তাকেও হত্যা করা হয়েছে।
লিমনের লাশ উদ্ধারের পর ওইদিনই তার রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে।













