হাওরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

এক দিনের ব্যবধানে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুই নদীর পানি প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার নিচে চলে এসেছে।
সোমবার (১১ মে) সকালে নেত্রকোণার ভুগাই-কংস নদী ও হবিগঞ্জের সুতাং নদীর পানি কমে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার তথ্য দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তেমন কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আগের দিনের তুলনায় উন্নতির দিকে।
রোববার উত্তর পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি নদীর পানি ৫ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার ভুগাই-কংস ও সুতাং নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে (সোমবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীর পানি কমেছে। ফলে নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
আগামী ১৫ মের পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন এ অঞ্চলের নদীগুলোতে পানি আবারও বাড়তে পারে। তখন আমরা প্রাক-মৌসুমী হিসাব থেকে বেরিয়ে এসে মৌসুমী বিপৎসীমা বিবেচনা করব।
সোমবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সবশেষ বুলেটিনে বলা হয়, এদিন সকাল ৯টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিনটি নদী তিনটি পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এ নদীগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোণা জেলার সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে এবং মগরা নদী নেত্রকোণা পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় তেমন কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ার তথ্য দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে আগামী দুই দিন হালকা থেকে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি এবং তৃতীয় দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার হলে মাঝারি-ভারি, আর ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারি বৃষ্টি বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী দুই দিন হ্রাস পেতে পারে এবং তৃতীয় দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। ফলে সুনামগঞ্জের কুশিয়ারা অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন হ্রাস পেতে পারে ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। ফলে নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। নেত্রকোণার মগরা নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন হ্রাস পেতে পারে এবং মগরা অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু নদীর পানি সমতল আগামী এক দিন হ্রাস পেতে পারে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং সুতাং নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন হ্রাস পেতে পারে। ফলে হবিগঞ্জ জেলার সুতাং অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।












