জালালাবাদে শিশু ফাহিমা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

ফাহিম আহমদ, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশের অভিযানে চাঞ্চল্যকর শিশু ফাহিমা আক্তার (৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. জাকির হোসেন (৩০) গ্রেফতার হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জালালাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. নূর উদ্দিনসহ সঙ্গীয় ফোর্স সোনাতলা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃত জাকির হোসেন সোনাতলা পশ্চিমপাড়া, ধন রায়েরচক এলাকার মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় জালালাবাদ থানায় মামলা নং-০৪, তারিখ ০৮/০৫/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।
পরে তার দেখানো মতে বাদাঘাট থেকে শিবেরবাজারের মধ্যবর্তী টেকেরবাড়ি এলাকার একটি খাল থেকে ভিকটিমের লাশ গুমে ব্যবহৃত ধূসর, সবুজ ও খয়েরি রঙের লম্বা স্ট্রাইপ দেওয়া একটি শাল উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া আসামির শয়নকক্ষের আলমারির উপর থেকে একটি কালো সুটকেস এবং খাটের নিচের মেঝে থেকে ভিকটিমের রক্তমাখা বালি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানায়, গত ৬ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সে নিজ বসতঘরে একা অবস্থান করছিল।
এ সময় শিশু ফাহিমা আক্তারকে ২০ টাকা দিয়ে বাড়ির সামনের দোকান থেকে দুটি সিগারেট আনতে পাঠানো হয়।
শিশুটি সিগারেট নিয়ে ফিরে এলে নির্জনতার সুযোগে শয়নকক্ষের দরজা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে গেলে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে আসামি মরদেহ একটি শাল দিয়ে পেঁচিয়ে কালো রঙের একটি লাগেজে ভরে ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের ক্যাবিনেটের উপর লুকিয়ে রাখে।
পরে মরদেহটি লাগেজ থেকে বের করে শয়নকক্ষের খাটের নিচে মেঝেতে লুকিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, গত ৮ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ৪টার দিকে আসামি মরদেহটি ঘরের সামনে নূরুল হক গংদের মালিকানাধীন ডোবার পানিতে ডুবিয়ে রাখার চেষ্টা করে।
তবে মরদেহ ভেসে উঠলে সেটি পানি থেকে তুলে ডোবার পশ্চিম পাশে এবং উঠানের পূর্ব পাশে বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে রেখে দেওয়া হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।



















