অন্য কেউ এদেশ ঠিক করে দেবে না, নিজেদের ঠিক রাখতে হবে, বরিশালবাসীকে প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের দেশের যত্ন আমাদেরকেই নিতে হবে, আমাদের দেশকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। সুতরাং সবাই মিলে যদি চেষ্টা করি, সচেতন হই তাহলে আমাদের পরিবেশটা সুন্দর করতে পারবো।
আমাদের পরিবেশটা সুন্দর করতে পারলে ভবিষ্যত বংশধররা একটা সুন্দর জায়গায় থাকতে পারবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় বৃষ্টিমুখর আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে বরিশালের গৌরনদীর সরিকল-বাটাজোর খালের পাশে বৃক্ষরোপণ একযোগে আড়াই হাজার গাছের চারা রোপন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলে।
এসময় তিনি বলেন, আপনারা জনগণ এই দেশের মালিক, সুতরাং এই দেশের জনগণ অর্থাৎ এই ঘরের মালিক হিসেবে ঘরের যত্ন আমাদের সকলেরেই করতে হবে।
বক্তব্য চলাকালে সামনের খালে ভাসতে থাকা প্লাস্টিকের বোতল দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব জায়গাতে যদি ময়লা-আবর্জনা ফেললে খাল-বিল সব বন্ধ হয়ে যাবে।
আর খাল-বিল যদি চালু থাকলে, পানি প্রভাবিত হয়, তাহলে উপকার এই এলাকার মানুষই হয়। অর্থাৎ সারাদেশের খাল-বিল যদি ঠিকঠাক থাকে তাহলে বণ্যার সময় ক্ষতি কম হবে।
রাস্তা দিয়ে আসার সময় দেখলাম যেখানে যেখানে বাজার আছে সেখানকার আশপাশে বিভিন্ন ধরনের কাগজ, পলিথিন, প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল ফেলে পরিবেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ যদি নষ্ট হয়, তাহলে ক্ষতি আমাদেরই হবে। ঢাকা শহরে গাড়ির ধোয়া, ট্রাকের ধোয়া, ইঞ্জিনের ধোয়া, ময়লার জন্য মানুষের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কিন্তু গ্রামে আসলে কিছুটা ভালো লাগে, বুক ভরে শ্বাস নেয়া যায়। কিন্তু আবর্জনা দিয়ে সব জায়গা ভরে যায়, তাহলে গোটা দেশের পরিবেশ নষ্ট হবে, তখন ছোট-বড়ো সব মানুষের ক্ষতি হবে, শ্বাস নিতে কষ্ট হবে, বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ হবে। আমরা এখানে উপস্থিত মিডিয়ার ভাই-বোনদের মাধ্যমে দেশের সমগ্র মানুষকে অনুরোধ করি-আসুন আমরা চেষ্টা করি যেখানে সেখানে আবর্জনা না ফেলতে। আমাদের কোনো ব্যবহার্য জিনিসের ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেলে, অর্থাৎ পানি খেয়ে পানির বোতল কিংবা প্যাকেটের ব্যবহার শেষ হলে সেটি যেখানে সেখানে না ফেলি। এতে আমাদের পরিবেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশটা নষ্ট হয়ে গেলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, পরবর্তীতে আমাদের সন্তানেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা নিজে যদি নিজের ঘর নিজে পরিষ্কার না রাখি, নিজের দেশটাকে নিজে ঠিক না রাখলে, বাহিরের দেশ থেকে কেউ এসে ঠিক করে দেবে না।
তিনি বলেন, আমাদের দেশকে সুন্দর করতে হলে সবাইকে চেষ্টা করতে হবে, একটি ঘর, ৪/৫ জন মানুষ অপরিষ্কার রাখলে একজন মানুষের পক্ষে তা পরিষ্কার করে গুছিয়ে রাখা সম্ভব নয়, তেমনি দেশের ক্ষেত্রেও সম্ভব নয়। আসুন আজ থেকে আমরা চেষ্টা করি যত্রতত্র ময়লা ফেলবো না, প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে, ফেলে দিতে হলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলবো। এই প্রতিজ্ঞা ও চেষ্টা আমাদের করতে হবে।
পকেট থেকে টিস্যু বের করে উপস্থিতিদের দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার পকেটে হাত দিলে টিস্যু বের হবে, যা দিয়ে কিছুক্ষণ আগে হাতের মাটি মুচেছি, এখন যদি এখানে ফেলে দেই তাহলে আপনাদের যা বলেছি তা তো আমিই নিজেই মানলাম না। ছোটোবেলা থেকে আমি অভ্যাস করেছি, টিস্যু ব্যবহার করে পকেটের মধ্যে রেখে । আমার। আমার প্যান্টের পকেটে হাত দিলেই টিস্যু পাওয়া যাবে, রাতে যখন বাসায় যাই তখন সারাদিনের ব্যবহৃত টিস্যু ডাস্টবিন নয়তো ময়লা ফেলার স্থানে ফেলে দেই। আমি চেষ্টা করেছি বিদায় অভ্যাসটা নিজের মধ্যে গগে তুলতে পেরেছি। তাই চেষ্টা করলে আমরা সবাই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে পারবো। তখন পরিবেশ সুন্দর হয়ে যাবে এবং নিজের দেশের পাশাপাশি বিদেশের মানুষও প্রশংসা করবো।
তিনি বলেন, আজ আমি আপনাদের সামনে রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য দিলাম না, কারণ রাজনৈতিক বক্তব্যের থেকে নিজের দেশের জন্য ভালো কিছু করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ধরে বরিশালের গৌরনদীর ভূরঘাটা এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৌঁছানো। সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বরিশাল সফর। এসময় তার গাড়ি বহরকে বরিশাল জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে তারা গাড়িবহরকে নিয়ে গৌরনদী পৌরসভার কর্মসূচিস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। গোটা সড়ক পথের দুইপাশে বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।


