৩০ বছর আগে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে, ধর্মেন্দ্রের পথেই ধর্মেন্দ্রকে সরাতে তৎপর ‘আরশোলা’রা!

আপডেট: July 23, 2026 |
fd 68
print news

নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে উত্তাল রাজধানী। এই আবহে হঠাৎই প্রকাশ্যে এসেছে প্রায় ৩০ বছর আগের একটি ছাত্র আন্দোলনের ঘটনা। সেখানে প্রশ্নফাঁস আন্দোলনের সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন বিজেপির ধর্মেন্দ্র।

নিট কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে উত্তাল নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা। ফলে হাওয়া পাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বিবৃতি দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই আবহে প্রকাশ্যে এসেছে প্রায় ৩০ বছর আগের একটি ঘটনা। সেখানে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে পথে নেমেছিলেন আজকের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী!

সালটা ১৯৯৭। কংগ্রেস-শাসিত ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকীবল্লভ পট্টনায়ক। তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধেও ওঠে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। ফলে ভুবনেশ্বরে জানকীর বাসভবনের কয়েক কিলোমিটার দূরে ধর্নায় বসেন হাজার দেড়েক ছাত্র-ছাত্রী। তাঁদের নেতৃত্ব দিয়ে রাতারাতি খবরের শিরোনামে উঠে আসেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শুধু তা-ই নয়, রাজ্য সচিবালয়ের সামনে চলা আন্দোলনের জেরে প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে সরকার।

ধর্মেন্দ্র-ঘনিষ্ঠদের কথায়, ওই সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী। তাদেরই ছাত্র শাখা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) নেতৃত্বে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে পথে নামেন তিনি। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ছিল, কোনও অবস্থাতেই এর দায় এড়াতে পারে না জানকী পট্টনায়ক সরকার। যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে কংগ্রেস-শাসিত ওড়িশা প্রশাসন।

এবিভিপিতে যোগদানের সময় ১৮ বছরের তরুণ ছিলেন ধর্মেন্দ্র। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের এই প্রাক্তনী ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দু’বার সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠনের জাতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের আন্দোলন সফল ভাবে পরিচালনার পর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এর জেরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) তাঁর যোগদানের রাস্তা যে মসৃণ হয়, তা বলাই বাহুল্য।

১৯৯৭-এর ছাত্র আন্দোলনে ধর্মেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন ভুবনেশ্বর আরএমডি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রশান্ত রাউত। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর মতো তিনিও উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী। তবে পড়তেন নিচু ক্লাসে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আমরা গুটি কয়েক প়়ড়ুয়া সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করি। কিন্তু অচিরেই বাড়তে থাকে ভিড়। একসময় সেটা ১,৫০০-র আশপাশে গিয়ে পৌঁছোয়।’’

২০০০-’০৯ সাল পর্যন্ত ওড়িশার শাসনক্ষমতায় ছিল বিজু জনতা দলের (বিজেডি) দলের জোট সরকার। এর অন্যতম শরিক ছিল বিজেপি। পরে সেই জোট ভেঙে বেরিয়ে যায় তারা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে উৎকল রাজ্যের কুর্সি দখল করে পদ্ম শিবির। ফলে দু’দশকের বেশি সময় পর ক্ষমতা হারান বিজেডি সুপ্রিমো তথা সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক।

অন্য দিকে, সিজেপির সংসদ অভিযানে পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জের নিন্দা করেছে সঙ্ঘ। এর জেরে সরকারের ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে বলেই মনে করে আরএসএস। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে খারিজ করেছে তারা। এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর