স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে ভালো হবে: সিইসি

আপডেট: August 24, 2026 |
fd 202
print news

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের অঙ্গীকারের কোনো ঘাটতি নেই মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় নির্বাচন যেটা করেছি, যেভাবে করেছি, তারচেয়ে বেটার হবে, খারাপ হবে না। সবার প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই নির্বাচন কমিশন ভোটের জন্য ঝাঁপ দেবে ।

আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় নির্বাচনের ভোট কবে নাগাদ শুরু হবে, এমন প্রশ্নে নাসির উদ্দিন বলেন, দিনক্ষণ এখন বলা যাবে না; দিনক্ষণ অনেক ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। আমাদের কিছু আইন কানুন, বিধি-বিধান সংশোধন করছি। আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি ভেটিংয়ের জন্য। আইনি বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে সরকারের সাথে আলোচনা করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে কমিশন তফসিলে যাবে জানিয়ে সিইসি বলেন, সরকার ছাড়া তো চলতে পারব না; বিজিবি, এসআরবি (র‌্যাব)—সবাই তো সরকারের লোক। শুধু আমার ইলেকশন কমিশন একার প্রস্তুতি নয়, এই সমস্ত বাহিনী—যারা ইলেকশনে কাজ করবে, তাদের প্রস্তুতি তো দরকার আছে।

নাসির উদ্দিন বলেন, নতুন একটা সরকার আসছে। যখন সবাই রেডি হব, তাহলে বোঝা যাবে যে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত। শুধু নির্বাচন কমিশন আমার ঘরের মধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে ইলেকশনে ঝাঁপ দেব—এমন না, সবাইকে নিয়েই আমার ঝাঁপ দিতে হবে ইলেকশনে। সবাইকে নিয়ে যে প্রস্তুতি, সেইটার জন্য আমরা কার্যক্রম আমরা নিয়েছি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নিজেদের প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারের অন্য সংস্থা, বাহিনীর প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন সিইসি। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের সমন্বয়ের অগ্রগতি জানতে আইজিপির সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে।

এবারের সংসদ নির্বাচনের ভোট মারামারি ছাড়াই হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে সেই ধারাবাহিকতা থাকবে কি না, এমন প্রশ্নে সিইসি নাসির বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে একটু ভায়োলেন্স হয় বেশি। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব; বিশেষ করে বিভিন্ন বাহিনীর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বটা এখানে একটু বেশি থাকবে। আশা করব আমরা সবাইকে নিয়ে এটা আমরা এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।

তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে এই ইলেকশনে খুব ভায়োলেন্সটা একটু বেশি হয়। তো সেটা কমিশনের মাথায় আছে। সেভাবে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মবিলাইজ করার চেষ্টা করব।জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনও ‘ভালো মানের’ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিইসি নাসির।

কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভোটের বিষয়ে নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পদে পদে যে চ্যালেঞ্জ ফেইস করতে হয়; কমিটমেন্ট সবাইকে এগিয়ে নেবে। এখানে আমাদের কমিটমেন্টে কোনো ঘাটতি নাই।

আমরা ঠিক জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি; তার চাইতে বেটার হবে, খারাপ হবে না। আমরা চাইব আরো বেটার করার জন্য। সুতরাং ওই স্ট্যান্ডার্ড তো থাকবেই।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ইউপি, পৌর, উপজেলা, সিটি নির্বাচনের মধ্যে ধাপে ধাপে অক্টোবর থেকে ভোট শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কোন নির্বাচন কবে হবে, দিণক্ষণ চূড়ান্ত করবে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ভোটার তালিকা প্রস্তুতি ও আইন-বিধি সংস্কারের কাজ চলছে।

সিইসি নাসির বলেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হয়ে থাকেন, আবার ভোটকেন্দ্র থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সেই কারণে পাবলিক পরীক্ষা এবং আবহাওয়া, বন্যা, পূজা— সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় ঠিক করা হবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর