সালাহউদ্দিনকে ‘গুমের’ মামলায় গ্রেপ্তার জিয়াউল আহসান

আপডেট: August 27, 2026 |
fd 222
print news

বিএনপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ২০১৫ সালে গুমের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেয়।

এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

জিয়াউল আহসানকে এদিন সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানিতে প্রসিকিউশন তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চাওয়া হয়।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে জিয়াউল আহসানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী ও তাসমিরুল ইসলাম।

সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগ জমা দেওয়া হয় ২০২৬ সালের ১৯ জুন।

সেখানে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান ছাড়াও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও এ কে এম শহীদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

এর আগে ১০ অগাস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ জিয়াউল আহসানকে এ মামলায় হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। ওই আদেশের পর বৃহস্পতিবার তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

জিয়াউল আহসান মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও একাধিক মামলার আসামি। সেসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন।

যেভাবে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন

২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ। সে সময় সালাহউদ্দিন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন।

তার নিখোঁজ হওয়ার পর দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার সন্ধান চেয়ে সরকারের কাছে একাধিকবার দাবি জানানো হয়। স্বামীর সন্ধান চেয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছিলেন হাসিনা আহমদ।

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই মাস পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে সালাহউদ্দিনের সন্ধান পাওয়া যায়। ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছিল, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাকে আটক করা হয়েছিল। বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকায় পরে তার বিরুদ্ধে ভারতে মামলা করা হয়।

তবে সালাহউদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, তাকে ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং কীভাবে তিনি শিলংয়ে পৌঁছেছেন, তা তিনি জানতেন না। পরে সালাহউদ্দিন নিজেও তাকে তুলে নেওয়া ও আটকে রাখার অভিযোগ করেছিলেন।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ অগাস্ট দেশে ফেরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর