ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭ লাখ টাকার ওষুধ চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪, পিকআপসহ মালামাল উদ্ধার

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও শহরের বিসিক মোড় এলাকার ‘সৌহার্দ্য ফার্মেসী’ নামে একটি ওষুধের দোকানে সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বগুড়ার শিবগঞ্জের মোঃ রাজু মিয়া (৩২), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের জাহাঙ্গীর হোসেন (৬০), নরসিংদীর বেলাবোর মোঃ বিল্লাল হোসেন (৫৫) এবং চুরি করা ওষুধ কেনায় অভিযুক্ত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ী শিখর চন্দ্র সরকার (৩০)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে (রাত ২:০০ থেকে ৩:৩০ ঘটিকার মধ্যে) ঠাকুরগাঁও পৌরসভার বিসিক মোড় এলাকার দবিরুল মার্কেটে অবস্থিত ‘সৌহার্দ্য ফার্মেসী’র তালা ভেঙে আনুমানিক ১৭ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার দামী ওষুধ চুরি করে নিয়ে যায় অজ্ঞাতনামা চোরেরা।
এ ঘটনায় দোকানের মালিক কল্যান চন্দ্র দেবনাথ ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মামলা রুজু করে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানার সমন্বয়ে একটি চৌকস তদন্ত টিম গঠিত হয়। তদন্তের একপর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজ, গোপন তথ্য ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে বগুড়া, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরের দশমাইল এলাকা থেকে মূল চক্রের তিন সদস্য—রাজু, জাহাঙ্গীর ও বিল্লালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, চুরি করা ওষুধগুলো গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসায়ী শিখর চন্দ্র সরকারের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।
আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে (২৯ সেপ্টেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিখর চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তার বসতবাড়ি ও দোকানে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত প্রথম তিন আসামি আন্তঃবিভাগীয় সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে।
তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।








