হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন হৃদরোগে ঝুঁকিপূর্ণ, ফ্রান্সের গবেষণা

ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিআগ্রহ দেখে যে কারো মনে হতে পারে এটি বোধহয় কভিড-১৯ চিকিৎসায় কার্যকর ওষুধ। অথচ চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা- এটি কার্যকর প্রমাণিত তো নয়ই বরং রয়েছে মারাত্বক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

মূলত, করোনা আক্রান্ত বিশ্ব যখন কভিড-১৯ চিকিৎসায় একটি অবলম্বন খুঁজছিলেন তখন কিভাবে যেনো রটে যায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন কোভিড-১৯ চিকিৎসায় কাজ করে থাকে। তারপর ভারত তাদের উৎপাদিত এই ওষুধটি রপ্তানি না করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু গুজবটি লুফে নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ভারতের সিদ্ধান্ত শুনে ট্রাম্প বলে বসলেন, হয় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দাও, নইলে চরম পরিণতির জন্য তৈরি হও। শেষ পর্যন্ত ভারত থেকে তিনি সেই ওষুধটি পাচ্ছেন।

হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে ট্রাম্পের এমন আত্নবিশ্বাস কেন? গত ৫ এপ্রিল হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প জানান, ফ্রান্সের চিকিৎসকরা তাকে বলেছেন তারা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করে চমৎকার ফল পেয়েছেন। অথচ ফ্রান্সের গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। ফ্রান্সের ওষুধ নিরাপত্তা সংস্থা এএনএসএম একটি ডাটা প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়, ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে কভিড-১৯ চিকিৎসায় সম্ভাব্য মিরাকল ভাবা হলেও এটি হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে মারাত্বক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরী করে। তাই মেডিকেল ডাক্তারের তত্ত্বাবধান ছাড়া এটি ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর হৃদযন্ত্রে সমস্যা হচ্ছে এমন ৪৩টি ঘটনায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক গবেষণা বলছে, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন বিশেষত কার্ডিওভাসকুলারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরী করে। কভিড-১৯ এর রোগীদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরো বেশি। তাই এ ওষুধ ব্যবহার করা হলেও তা অবশ্যই হাসপাতালে ব্যবহার করতে হবে ডাক্তারদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন বলছেন এটি কভিড-১৯ এর জন্য সম্ভাব্য চিকিৎসা তখন এর পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই যে এটি কভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে কাজ করে বা এর ব্যবহার নিরাপদ। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এটিকে কার্যকর ওষুধ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, ক্লিনিক্যাললি এটা এখনো প্রমাণিত নয় যে এটি কভিড-১৯ এর চিকিৎসায় কাজ করে।

কভিড-১৯ এ আক্রান্ত যারা একেবারে শেষ পর্যায়ে তাদের জন্য হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন শেষ অবলম্বন আখ্যা দিয়ে কাইজের ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক সহকারী পরিচালক জশোয়া মিখাউদ বলেন, ‘এ ওষুধ বিপুল সংখ্যক মানুষ নেয়ায় আমি উদ্বিগ্ন। করোনার লক্ষণ বেশি বা কম হোক সবাই এ ওষুধ নিচ্ছে। অথচ এ ওষুধটি কভিড-১৯ চিকিৎসায় কার্যকর প্রমাণিত নয়, বিপরীতে এর মারাত্বক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।’

সূত্র: ব্লুমবার্গ, ভক্স,

বৈশাখী নিউজবিসি