বাদুড় নিয়ে গবেষণা করছিল চীন, অর্থ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

মহামারি আকারে করোনাভাইরাস বাদুড় নিয়ে করা গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে চীনের উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজি ইউন্নান থেকে এক হাজার মাইল দূরে একটি গুহায় বাদুড় নিয়ে ওই গবেষণা চালাচ্ছিল। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র তিন দশমিক সাত মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে।

উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজির ইউন্নান থেকে এক হাজার মাইল দূরের ওই গুহায় করোনাভাইরাসের উপস্থিতি থাকার প্রমাণ মিলেছে। মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা করোনাভাইরাস উহানের ল্যাব থেকে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা প্রকাশের পর গত সপ্তাহে ডেইলি মেইল এটি জানতে পেরেছে।

মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিজ্ঞানিরা আগে থেকেই বলে আসছেন উহানের বন্যপ্রাণী বিক্রির বাজার থেকে করোনাভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটেছে। কিন্তু ল্যাব থেকে করোনা ছড়ানোর বিষয়টি আর ছাড় দেওয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, ওই ল্যাবের বিজ্ঞানিরা করোনাভাইরাস ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ডেইলি মেইল জানতে পেরেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অর্থ সহায়তা পেয়ে উহানের বিজ্ঞানিরা বাদুড়ের ওপর পরীক্ষা শুরু করেছিল। উহানের ল্যাব থেকে মার্কিন সহায়তা গ্রহণ করে বাদুড়ের ওপর পরীক্ষা চালানোর জন্য গবেষকদের অনুমতি দিয়েছিল।

২০১৭ সালের নভেম্বরে সেই গবেষণার ফলও প্রকাশ হয়। সার্স-ভাইরাসের আলোকে বাদুড়ে করোনাভাইরাস সমৃদ্ধ জিনের আবিষ্কার এবং এটির উৎস সম্পর্কে নতুন অন্তর্দৃষ্টি সরবরাহ শীর্ষক শিরোনামে সেই গবেষণাটি করা হয়।

ইউন্নানের একটি গুহায় সেই গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সেখান থেকে নমুনা হিসেবে বাদুড় সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা চালানোর তথ্যও উল্লেখ করা হয়। আর এজন্য উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজির প্রাণী বিষয়ক নীতিমালা কমিটির অনুমোদনও নেওয়া হয়।

২০১৮ সালে আরেকটি গবেষণার ফল প্রকাশ হয়। সেটাও বাদুড়ের ওপর করোনাভাইরাসের উপস্থিতি এবং এটির উৎস সংক্রান্ত। ওই গবেষণার জন্য বাদুড় সংগ্রহ করা হয় চীনের কুনমিং থেকে। চীনে শূকরের খামারে করোনা ছড়ানোর বিষয়টি নিয়ে গভীর অনুসন্ধানের জন্য বাদুড় নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়।

এই গবেষণার আওতায় বাদুড় থেকে করোনাভাইরাস ল্যাবে পৃথক করে মাত্র তিনদিন বয়সের শূকরের শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ওইসব শূকর থেকে অন্য শূকর আক্রান্ত হয় কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে এই ভাইরাস কয়েকদিনের মধ্যেই বিলীন হয়ে যায়।

চীনের দাবি, করোনাভাইরাস ছড়ানো নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক হবে না। অতীতে যে কোনো গবেষণা চালানোর বিষয়টি এটা প্রমাণ করে না যে- কভিড-১৯ মানুষে সংক্রমিত হয়েছে কোনো  ল্যাব থেকে ছড়ানো ভাইরাস থেকে। লন্ডনের চীনা দূতাবাস থেকে এ ব্যাপারে অনুরোধও জানানো হয়েছে। ডেইলি মেইলের এই প্রতিবেদন একেবারে ভিত্তিহীন হিসেবেও উল্লেখ করেছে লন্ডনের চীনা দূতাবাস।

সূত্র : ডেইলি মেইল।

বৈশাখী নিউজবিসি