রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ হাসি কোহলিদের

প্রথম এবং দুই নম্বরে থাকা দলের লড়াই। এমন যুদ্ধবাজ দুই দল বাইশ গজের লড়াইয়ে নামলে কড়া টক্কর তো হবেই। তবে শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে পারল না বিশ্বকাপ জয়ী ইংল্যান্ড। তাই আপাত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের শেষে ৩৬ রানে জিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে হাসিমুখে মাঠ ছাড়লেন বিরাট কোহলি।

শুক্রবার রাতে মোতেরার নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে পাহাড়সম ২২৫ রান তাড়া করতে নামা ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে তখন ১ উইকেটে ১৩০ রান। ভারতের সব বোলারদের বিরুদ্ধে তখন দেদার রান তুলছেন ডেবিড মালান ও জস বাটলার। মনে হচ্ছিল ম্যাচ ও সিরিজ যেন হাত থেকে বেরিয়ে গেল। কিন্তু বিরাট কোহলির মাথায় ঘুরছিল অন্য পরিকল্পনা। ১৩তম ওভারে ফের বল তুলে দিলেন ভুবনেশ্বর কুমারের হাতে। এলো কাঙ্খিত সাফল্য। ভুবির স্লোয়ারে পরাস্ত হয়ে সাজঘরে ফিরলেন বাটলার (৫২)। স্কোরবোর্ড বলছে ১৩০ রানে ২ উইকেট। যেন প্রাণ এলো বিরাটবাহিনীর দেহে।

তবে রোমাঞ্চের শেষ নয় এখানেই। ১৫তম ওভারে ইংরেজদের জোড়া ধাক্কা দিলেন শার্দুল ঠাকুর। ঠিক যেন তৃতীয় ম্যাচের প্রতিফলন। সেই ম্যাচের ১৭তম ওভারে বেন স্টোকস ও ইয়ন মর্গ্যানকে পরপর দুই বলে আউট করেছিলেন শার্দুল। আর এই ম্যাচে তার শিকার জনি বেয়ারস্টো ও বিস্ফোরক মেজাজে ৬৮ রানে ব্যাট করা ডেবিড মালান। ১৪২ রানে ৪ উইকেট হারাতেই ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যায় ইংল্যান্ড। শিশির খেলায় প্রভাব ফেললেও ভুবি, শার্দুল সেটা বুঝতে দেননি। শেষের দিকে হার্দিক পাণ্ডিয়া, নটরাজন তুলে নেন একটি করে উইকেট। ফলে একটা সময় চাপে থাকলেও, ম্যাচ ও সিরিজ পকেটে পুরতে ভারতকে মোটেও বেগ পেতে হয়নি।

এর আগে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে এ দিনও ফের টসে হারেন বিরাট। তবে কে এল রাহুলকে বাইরে রেখে নিজেকে ওপেনিংয়ে তুলে এনে বিপক্ষকে প্রথম ঝটকা দেন অধিনায়ক। রোহিত শর্মা ও বিরাটের জুটিতে শুরু থেকেই কুপোকাত ইংল্যান্ড। মাত্র ৯ ওভারে ৯৪ রান তুলে ফেলে ভারত। এরপর রোহিত ৩৪ বলে ৬৪ রানে আউট হলেও পাল্টা আক্রমণ থেকে সরে আসেনি দল। বরং সূর্য কুমার যাদব শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। গত ম্যাচে যেখানে শেষ করেন এ দিন যেন সেখান থেকেই শুরু করেন মুম্বাইয়ের এই ব্যাটসম্যান। মাত্র ১৭ বলে ৩২ রানে ফেরেন সূর্য।

আর বাকিটা সময় ধরে বাইশ গজ জুড়ে চললো শুধু ‘কিং কোহলি’র ব্যাটিং রাজত্ব। ৫২ বলে ৮০ রানে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক। প্রথম ও চতুর্থ ম্যাচে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে একইসঙ্গে এদিন এই সিরিজে করেন তিনটি অর্ধ শতরান। যদিও ক্রিকেটীয় বিচারে এই ইনিংসের তাৎপর্যটা অনেক বেশি। রোহিত ও সূর্যের মতো তিনিও শুরু থেকে ব্যাট চালাতে পারতেন। কিন্তু সেটা না করে পুরো ইনিংস জুড়ে ইংরেজদের শাসন করার দায়িত্ব নেন। আর এতেই ইয়ন মর্গ্যানের দলের বিরুদ্ধে সর্বাধিক ২২৪ রান তোলে ভারত। আর ১৭ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন হার্দিক।

বিশাল রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ভাল হয়নি। সাহেবদের প্রথম ধাক্কা দেন ভুবি। জেসন রয় খালি হাতে ফিরে যান। কিন্তু এরপর প্রতি আক্রমণ শানান বাটলার ও মালান। চোখের নিমেশে দ্বিতীয় উইকেটে ১৩০ রান যোগ করেন। ফলে মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড ম্যাচ জিতে নেবে। কিন্তু বিরাটের ক্ষুরধার মস্তিস্ক অন্য ছক করেছিল। ভুবি ও শার্দুলের সেই ফাঁদে ধরা দেয় ইংল্যান্ড। ফলে ৮ উইকেটে ১৮৮ রানে থেমে যায় মর্গ্যানের দল।

আর ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে’ প্রবাদকে ফের একবার মনে করিয়ে দেশকে আরও একটা ম্যাচ ও সিরিজ উপহার দেন বিরাট কোহলি। ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ হারে ইংল্যান্ড।

বৈশাখী নিউজজেপা