সাধারণ মানুষের দুর্লভ দলিলপত্র পুড়ল হেফাজতের আগুনে

হেফাজতের আগুনে পুড়ল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষের সম্পদের শেষ অবলম্বন ভূমির মূল্যবান দুর্লভ দলিলপত্র। এতে করে ভূমি মালিকদের হয়রানি আর ভোগান্তি বাড়বে কয়েক ধাপ। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া ভবনটির নথিপত্র আগের মতো পাওয়া যাবে কিনা এ নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। তারা এতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুরাতন জেল রোডস্থ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায় ভূমির দলিলপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এখনও আগুনে পোড়া গন্ধ ছড়াচ্ছে। জনগণের সম্পদের শেষ ভরসাস্থল কাগজের দালিলিক এই নথিপত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের এক বাড়ির মালিক বলেন, সদর উপজেলা ভূমি অফিসটি পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা শুনে আজ অফিসটি দেখতে এসেছিলাম। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বাইরে থেকে উঁকি দিয়ে দেখলাম মূল্যবান দলিলপত্রের বান্ডিল কোনোটির আধাপোড়া অবস্থায় আবার কোনোটি পুরোপুরি পুড়ে গেছে। এমন অবস্থা দেখে নিজর সম্পদের রেকর্ডপত্র দালিলিক প্রমাণাদি ঠিক আছে কিনা সংশয় প্রকাশ করছি।

একই সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আবু হোরায়রাহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া ভূমি অফিসটি ঘুরে দেখেন।

এসময় তিনি জানান, জমিজমা বাড়িঘরের মূল্যবান রেকর্ডপত্র ছিল এই অফিসটিতে। যারা আগুনে পুড়িয়েছে তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। তাদেরকে দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ভূমি অফিসটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় জেলা উদীচীর সভাপতি জহিরুল ইসলাম স্বপন জানান, ভূমি অফিসে কৃষক, শ্রমিক জনতার পৈত্রিক সম্পদ আছে। মধ্যবিত্তেরও সম্পদ আছে।

আগুনে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মূল্যবান দলিলপত্র পুড়ে যাওয়ায় উচ্চবিত্তরা যে কোনো সময় তাদের সম্পদ দখলের পায়তারা করতে পারেন। সাধারণ মানুষের মাঝে এখন এমন শঙ্কা বিরাজ করছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলন হলো গতাণুগতিক একটি প্রক্রিয়া। পাকিস্তানের সময় অনেক বড় বড় আন্দোলন হয়েছে। ওই সময় কেউ এমন ধ্বংস যজ্ঞ চালায়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে জহিরুল হক স্বপন বলেন, যারা আন্দোলনের নামে জনগণের সম্পদ নষ্ট করে, তারা তো জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। তার একটি জলন্ত উদাহরণ হচ্ছে উপজেলা ভূমি অফিসে আগুন দেয়া।

পুড়ে যাওয়া জনগণের সম্পদ সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার এবিএম মশিউজ্জামান বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি কক্ষে মূল্যবান, দলিল, সিএস, আরওআর, আর এস পর্চাসহ ব্রিটিশ আমলের বেশ কিছু দুর্লভ দলিল ছিল।

গত (২৮ মার্চ) রোববার হরতাল চলাকালে অফিসটি পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আমরা এখন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করছি। বিকল্প পন্থায় জনগণের সেবা দেয়ার চিন্তা ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে।

বৈশাখী নিউজজেপা