ভিনিসিয়াসের জোড়া গোলে উড়ে গেল লিভারপুল

করোনার কারণে ঘরের মাঠে দর্শকবিহীন খেলতে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকে। ছিল না দর্শক উল্লাস, তবু খেলায় ভাড়া পড়েনি রিয়ালের। বল দখলের লড়াইয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণভাগে রিয়াল মাদ্রিদ এদিন ছিল অপ্রতিরোধ্য। তরুণ ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জোড়া গোল আর মার্কো অ্যাসেন্সিওর এক গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের পথে এগিয়ে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। লিভারপুলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন মোহাম্মদ সালাহ।

তবে, প্রতিপক্ষের মাঠে মহামূল্যবান একটি অ্যাওয়ে গোল পাওয়ায় ফিরতি লেগে ইয়ুর্গেন ক্লপের দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা টিকে আছে ভালোমতোই।

মঙ্গলবার রাতে আলফ্রেদো ডি স্টেফানো স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে ৩-১ গোলে জিতেছে প্রতিযোগিতার রেকর্ড ১৩ বারের চ্যাম্পিয়নরা।

এদিন লিভারপুলকে পাত্তাই দেয়নি জিনেদিন জিদানের দল। মূল দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস ও রাফায়েল ভারানেকে ছাড়া খেলতে নামা রিয়ালের রক্ষণভাগকে প্রথমার্ধে কোনও পরীক্ষাই নিতে পারেনি লিভারপুল। উল্টো তাদের ভঙ্গুর রক্ষণে শুরু থেকেই চাপ বাড়ায় স্বাগতিকরা। আক্রমণের পর আক্রমণে ছিন্নভিন্ন অল রেডসদের রক্ষণ। আর এদিন লস ব্ল্যাঙ্কোসদের আক্রমণকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তরুণ ব্রাজিলিয়ান উঠতি তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। অন্যদিকে মাঝমাঠে জিদানের ভরসার আস্থা রেখেছেন লুকা মদ্রিচ এবং টনি ক্রুস।

খেলার বয়স তখন মাত্র মিনিট তিনেক, বল নিয়ে করিম বেনজেমার দুর্দান্ত কারিকুরি এরপর শট কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা রুখে দেন অ্যালিসন বেকার। এরপর ১২ মিনিটের মাথায় লুকা মদ্রিচকে ডি বক্সের ভেতর ফাউল করায় পেনাল্টির জোরাল আবেদন করে রিয়াল কিন্তু রেফারি শেষ পর্যন্ত মন গলাননি তাদের আবেদনে। এর এক মিনিট পর ফারল্যান্ড মেন্ডির ক্রস থেকে হেড করেন ভিনিসিয়াস কিন্তু লক্ষ্যে রাখতে না পারলে বল চলে যায় বাইরে।

এরপর আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি গ্যালাক্টিকোদের। ম্যাচের ২৭ মিনিটে টনি ক্রুসের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ভিনিসিয়াস। তবে এই গোলের মূল কারিগর ছিলেন জার্মান স্নাইপার খ্যাত রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ড মায়েস্ত্রো টনি ক্রুস। মধ্য মাঠে বল পেয়ে লিভারপুলের খেলোয়াড়দের দেওয়ালের ওপর দিয়ে ভিনিসিয়াসের উদ্দেশে লম্বা করে বল বাড়ান তিনি। এরপর বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠান্ডা মাথায় শিল্পির মতো তুলির শেষ আঁচড় টানেন ব্রাজিলিয়ান এই তরুণ।

এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে রিয়াল মাদ্রিদের দ্বিতীয় কমবয়সী খেলোয়াড় হিসেবে গোল করলেন ভিনিসিয়াস (২০ বছর ২৬৮ দিন)। তার চেয়ে কম বয়সে নকআউট পর্বে গোল করেছেন রিয়াল কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেজ (২০ বছর ২৫৩ দিন)।

১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জিনেদিন জিদানের দল। দুর্দান্ত সব আক্রমণে ব্যস্ত রাখে অল রেডসদের রক্ষণকে। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে লিভারপুল রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ড বল বিপদমুক্ত করতে দুর্বল হেডে বল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের উদ্দেশে বাঁড়াতে যান। কিন্তু তার আগে অ্যাসেন্সি বল কেড়ে নেন, এরপর অ্যালিসনকে পেছনে ফেলে বল জালে জড়ান অ্যাসেন্সিও।

প্রথমার্ধে লিভারপুলকে নিয়ে যেন ছেলেখেলায় মেতে ওঠে রিয়াল। আরও কিছু দুর্দান্ত আক্রমণ করলেও শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। বিরতি থেকে ফিরেই নিজেদের খুঁজে পেতে শুরু করে অল রেডসরা। রিয়ালকে গুছিয়ে উঠতে সময় না দিয়েই ৫১তম মিনিটে মোহাম্মদ সালাহ দুর্দান্ত এক গোল করে লিভারপুলের ফেরার বার্তা দেন।

তবে লিভারপুলকে খুব বেশি সময় স্বস্তিতে থাকতে দেননি ভিনিসিয়াস। ম্যাচের ৬৫তম মিনিটের মাথায় লিভারপুলের ডি বক্সের ভেতর বল পেয়েও শট নেওয়ার জায়গা পাননি করিম বেনজেমা তাই বল বাড়িয়ে দেন মদ্রিচের দিকে। লুকা মদ্রিচ দেখে নেন ভিনিসিয়াস আছেন গোল করার মতো পজিশনে আর সঙ্গে সঙ্গে তার উদ্দেশেই বল বাড়িয়ে দেন। আর ঠান্ডা মাথায় ভিনিসিয়াস বল জালে জড়িয়ে দলকে ৩-১ ব্যবধান এগিয়ে নেন।

এরপর দুই দলই দুর্দান্ত কিছু আক্রমণ করলেও শেষ পর্যন্ত আর গোলের দেখা পায়নি দুই দলের কেউই। তাই তো ঘরের মাঠে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে লিভারপুলকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে আগামী ১৫ এপ্রিল লিভারপুলের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈশাখী নিউজজেপা