সার্বজনিন শিক্ষাব্যবস্থার অংশ মসজিদ-মন্দির ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম : শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি বলেন, সার্বজনিন শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হলো মসজিদ-মন্দির ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম।

জাতি পিতা দেশ স্বাধীনতার পর সার্বজনিন বা সবার জন্য শিক্ষাব্যবস্থার উপর গুরুত্বরোপ করে শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজিয়ে ছিলেন। আর তাই তিনি সার্বজনিন প্রাথমকি শিক্ষাব্যবস্থার সূচনা করেন।

তিনি প্রাথমিক শিক্ষকদের সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করতেন। মসজিদ-মন্দির ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি আমরা যারা সমাজে রয়েছি, তাদের নৈতিক-সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে এবং সমাজে স্বচ্ছল ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

এক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেত্রীবৃন্দদের নিয়ে মন্দির ভিত্তিক শিশু শিক্ষার জন্য ফান্ড গঠন করা যেতে পারে, যা দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো উন্নত করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের মানসিক গঠনে এই শিক্ষার্থীদের সাংস্কতিক বিকাশে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের আয়োজন করতে হবে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও উৎসবে এসব শিশুদের সহযোগিতা, পোশাক, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সমগ্রীর ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সম্পন্ন জাতি গঠনে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কর্যক্রম- ৫ম পর্যায় প্রকল্পের ভূমিকা” শীর্ষক কর্ম অধিবেশনে ভার্চুয়াল আলোচনায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি এসব কথা বলেন।

নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজস্ট্রিট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূঞা এবং এ্যাডঃ শ্রী ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, হিন্দর্ধমীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রে ট্রাস্টি নরসিংদী। এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মোঃ নূরুল ইসলাম পিএইচডি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম- ৫ম পর্যায়ের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), শ্রী রঞ্জিত কুমার দাস এবং মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম- ৫ম পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, আবহমকাল ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অসম্প্রায়িক রাজনীতি করে আসছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন অসম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছেন, তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও অসম্প্রদায়িক রাজনীতি করছেন।

জাতির পিতা আমাদের শিখেয়েছেন অসম্প্রদায়িক ও গনমানুষের রাজনীতি করতে। আমরা যারা গণমানুষের রাজনীতি করি, আমাদের কমিটমেন্ট হলো মানুষ। জনগণই আমাদের মূল এবং শক্তি। সেবা নিয়ে সেই জনগণের কাছেই আমাদের যেতে হবে।

এদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খিস্টান যারা আছে, আমরা তাদেরকে মানুষ হিসেবে দেখি। এখানে তাদেরকে আলাদা করে দেখি না। আমাদের রাজনীতি সহাবস্থানের রাজনীতি। এক ধরনের ধর্মীয় উগ্রবাদ গোষ্ঠী এদেশের ধর্মী সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সবাই সচেতন থাকতে হবে।

বৈশাখী নিউজজেপা