চেক রিপাবলিককে হারিয়ে সেমিফাইনালে ডেনমার্ক

প্রথমার্ধে দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ডেনমার্ক বিরতির পর ছন্দ হারাল কিছুটা। ব্যবধান কমিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা জাগাল চেক রিপাবলিক। তবে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠল না তারা। দারুণ জয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠল ডেনিশরা। আজারবাইজানের বাকু অলিম্পিক স্টেডিয়ামে শনিবার তৃতীয় কোয়ার্টার-ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে ডেনমার্ক।
ডেনিশদের শুরুটা হয় দুর্দান্ত। ৫ম মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ম্যাচের প্রথম কর্নারে হেডে বল জালে পাঠান অরক্ষিত মিডফিল্ডার ডেলানি। ১৪ মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পায় ডেনমার্ক। সতীর্থের লম্বা করে বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মিকেল ডামসগার্ড। এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে ফাঁকি দিতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু শটে জোর ছিল না তেমন। গোললাইন থেকে ফেরান এক ডিফেন্ডার।
দুই মিনিট পর আবার সুযোগ পান ডেলানি। ডান দিক থেকে সতীর্থের নিচু ক্রসে ডি-বক্সে তার ভলি লক্ষ্যে থাকেনি। ২২তম মিনিটে গোলরক্ষক কাসপের স্মাইকেলের ভুলে বিপদে পড়তে বসেছিল ডেনমার্ক। তিনি বল তুলে দেন প্রতিপক্ষের লুকাস মাসোপুস্টের পায়ে। পরে এই মিডফিল্ডারের পাসে কাছ থেকে তমাস হোলেসের প্রচেষ্টা ঠেকান স্মাইকেল।
বিরতির আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডলবার্গ। বাঁ দিক থেকে ইওয়াখিম মেইলের দারুণ ক্রসে ছয় গজ বক্সের মুখে ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম তিন মিনিটে তিনটি সুযোগ তৈরি করে চেক রিপাবলিক। মিকায়েল ক্রমেনচিকের শট সহজেই ঠেকানোর পর বারাকের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ফেরান স্মাইকেল।
আর ডি-বক্সে শিকের বাইসাইকেল কিক এক ডিফেন্ডারের গায়ে লাগে। ৪৯তম মিনিটে চেকদের আর আটকে রাখতে পারেনি ডেনিশরা। ডান দিক থেকে ভ্লাদিমির কুফলের নিচু ক্রসে ডি-বক্সে ভলিতে ব্যবধান কমান শিক।
পাঁচ ম্যাচে শিকের গোল হলো পাঁচটি। আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার চূড়ায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাশে বসলেন তিনি। ৬১তম মিনিটে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পান চেক রিপাবলিকের তমাস সুচেক। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে খেলা চালিয়ে যান এই মিডফিল্ডার।
৭৮তম মিনিটে ব্যবধান বাড়তে পারত ডেনমার্কের। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে ইউসুফ পোলসেনের নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক তমাস ভাসিলিক।
যোগ করা সময়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে চেক রিপাবলিকের বারাকের ভলি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে গেলে পরের ধাপে যাওয়ার আশা শেষ হয়ে যায় তাদের। উৎসবে মাতে ডেনিশরা।
১৯৯২ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই প্রথম মহাদেশীয় প্রতিযোগিতাটির সেমিফাইনালে উঠল ডেনমার্ক।

