গাজীপুরে চাকরির প্রলোভনে নারী শ্রমিককে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৪

মাছুদ পারভেজ, গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জে চাকুরির দেয়ার নাম করে অপহরন করে নারী শ্রমিককে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ৪ যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে গ্রামবাসী।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ভাটিরা একালাকায় বিলের দৃষ্টিনন্দন সড়কের ব্রিজে।
এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে ভিকটিমকদেরকে শারীরিক পরীক্ষা -নিরিক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞতা আরো ৪-৫ জনেকে আসামী করে কালীগঞ্জ থানায় ৫(৮)২৩} নং মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের মলাপাড়া এলাকার বাদলের ছেলে নাদিম (২০), খলাপাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে জাকারিয়া(১৯), বাশাইর এলাকার ফিরোজ সরকারের ছেলে মেহেদী (১৮) এবং একই এলাকার মিন্টুর ছেলে শাকিব (১৯)।
আর পলাতক আসামিরা হলো, ভাটিরা এলাকার বাবুলের ছেলে মহিউদ্দিন (৩৫), মৃত সোবহানের ছেলে জাকারিয়া (৩৫), রমিজ উদ্দিন রুমির ছেলে হোসেন (৩৫) এবং সাইদের ছেলে সায়েম (৩০)।
একদল বখাটে দুই বান্ধবীকে জোড়পূর্বক তুলে নিয়ে একজনকে ধর্ষণ ও অপরজনকে শ্লীলতাহানি করে।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত চার যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ভুক্তভোগী যুবতী একটি গ্রুপ অফ কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে চাকরি করে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে ধর্ষণের শিকার যুবতীর বাড়ি বড়গাঁও গ্রামে এবং অপরজন মোক্তারপুর গ্রামের।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, ভুক্তভোগী রত্না ও রুপা (ছদ্মনাম) দুজন পূর্ব পরিচিত এবং বান্ধবী।
রুপা আগে থেকেই পলাশ উপজেলায় অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল কোম্পানিতে চাকরি করতো।
ওই কোম্পানিতে নতুন করে চাকরিতে যোগ দিতে গত সোমবার (১৪ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে রুপা (১৮) বাড়ি থেকে বের হয়।
অপরদিকে তার বান্ধবী রত্না (২২) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে প্রাণ কোম্পানির গেইটে পৌঁছায়। সে সময় কোম্পানিতে প্রবেশের নির্ধারিত সময় অতিক্রম হওয়ায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।
সে সময় রত্না রূপাকে বলে পাশেই আমার এক আত্মীর বাড়ি রয়েছে। যেহেতু রাত হয়ে গেছে তাই চলো আমরা দু’জনে ঐখানে গিয়ে আমরা দুজন আজ রাতে থেকে যাই।
পরে রত্না তার মোবাইল ফোন থেকে আসামি নাদিমকে কল করে জামালপুর খেয়াঘাট আসতে বলে। এরপর তারা দু’জন নৌকায় করে শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে জামালপুর খেয়াঘাট পৌঁছায়।
সে সময় আসামি নাদিম একটি অটোরিকশায় তাদের দুজনকে উঠিয়ে খলাপাড়া বাগবাড়ি এলাকার দিকে দিকে রওনা দেয়।
কিছুদূর যাওয়ার পর রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে আসামি জাকারিয়া এসে ওই অটোরিকশা থামায় এবং তা পরিবর্তন করে আসামি মেহেদীর অটোরিকশায় তাদের উঠায়।
সে সময় আসামি শাকিব উপস্থিত হয়। পরে আসামিদের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রত্না ও রূপাকে অটোরিকশায় নিয়ে ভাটিরা এলাকার ইটাখরাই বিলের মাঝে দিয়ে চলা দৃষ্টিনন্দন নামক সড়কের পাশে থাকা বিএডিসি সেচ পাম্প সংলগ্ন ব্রিজের দিকে নিয়ে যায়।
সে সময় আসামিরা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে শ্লীলতাহানি করতে থাকে। এর মধ্যে আসামি মহিউদ্দিন, জাকারিয়া, হোসেন, সায়েমসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জন ঘটনাস্থলে এসে রত্নাকে টেনে হেঁচড়ে ওই ব্রিজের উপরে নিয়ে অনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের কেউ একজন রত্নাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
সে সময় বিলের মাঝে মাছ ধরতে থাকা স্থানীয় এক যুবক এগিয়ে আসলে তাকে ছুরি উঁচিয়ে হত্যার হুমকি দেয়।
পরে ওই যুবকরা এলাকার লোকজনকে ঘটনার বিষয়ে জানায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় প্রায় ৩০/৪০ জন লোক লাঠিসোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে রওনা হলে আসামিরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন চারজনকে আটক করে থানায় খবর দেয়া ।
পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ৪ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।






