দেশের উন্নয়ন চাইলে নৌকার পক্ষেই রায় দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট: August 19, 2023 |
inbound2311975203670679222
print news

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা উন্নয়ন চায়, নাকি ধ্বংস চায়। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে হলে জনগণকে নৌকার পক্ষেই রায় দিতে হবে।

আজ শনিবার (১৯ আগস্ট) সকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

দীপু মনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত শুধু মানবাধিকারের কথা বলে। যখন ’৭১ ও ’৭৫ এর খুনিদের সহয়তা করেছে, সেই সময়ে তারা (বিএনপি-জামায়াত) মানবাধিকারের কথা বলেনি।

বিএনপি-জামায়াতের কান্নাকাটি দেখলে মনে হয় সারাবিশ্বে একমাত্র মানবাধিকার তাদের আছে। এ দেশের গণতন্ত্রকে যারা আঘাত করেছে আমার কি তাদের মায়া কান্নায় ভুলব? নাকি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের নামে তারাই মায়া কান্না করছে, যারা যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় এনেছিল, কারফিউ দিয়ে সরকার চালিয়েছিল।

যারা বিচার হতে দেয়নি, যারা হত্যাকারীদের মুক্তি দেয়। আর মানবাধিকারের নামে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধী সেই পরাশক্তি।

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীপু মনি বলেন, উনারা রাতের অন্ধকারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুসারীদের দিয়ে উপাচার্যের কক্ষ দখল করেছিল।

তারা সবকিছু তাদের হিসাব দিয়ে বিবেচনা করে। যারা নর্দমার কিট তাদের নজরটাও নর্দমায় থাকে।

যারা শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল, যারা শিক্ষাঙ্গনে অস্ত্র নিয়ে এসেছিল তারাই সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে অমর্যাদাকর বক্তব্য দিতে পারে।

তিনি বলেন, একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি, যারা যুদ্ধাপরাধ করেছে, পাকিস্তানি অপশাসন টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছে, দেশের স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতা রুখতে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করছে, লাখ লাখ নারীকে ধর্ষণ করেছে, লুটতরাজ করেছে; তারাই একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পঁচাত্তরের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর বিচার চাওয়ার পথও রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

ওই খুনিচক্র ২১ বার বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে।

এই চক্র ও তাদের দোসরা একাত্তরে পাকিস্তানের পক্ষে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছে, ৭৫এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছে।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ এইচ এমন আহসান হাবীব।

আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নিজে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দেন।

পাশাপাশি ২৮ জন বিশেষজ্ঞসহ ৭০ জন চিকিৎসক সেবা প্রদান করেন।

দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে ৩ হাজার রোগী ওষুধসহ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। এ ছাড়া ৫০০ দুঃস্থ অসহায়দের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর