শাহজাদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় বাবা-ছেলে আহত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

সিরাজগঞ্জ পৃরতিনিধি : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর সদরের দ্বারিয়াপুর কাপড় হাটে কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র হামলায় কাপড় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া (৫৫) ও তার ছেলে অন্তর (২৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।
এই নৃশংস হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে শাহজাদপুরের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে শহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে রবীন্দ্র কাচারিবাড়ির পূর্ব সড়কের কাপড় হাটে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র কিশোর দল চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গ্যাংয়ের সদস্যরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রথমে অন্তরের উপর হামলা চালায় এবং ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা মানিক মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করে।
এ সময় উদ্ধারে এগিয়ে আসা স্থানীয়দেরও মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। হামলাকারীরা দোকান থেকে ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
আহত অন্তরকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
আহত মানিক মিয়া শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার ঘটনায় মানিক মিয়া বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘হৃদয়ে শাহজাদপুর’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইডি থেকে এই গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয় শাহজাদপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদের বিরুদ্ধে।
তবে এমদাদুল হক নওশাদ বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে দ্বারিয়াপুর বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
তিনি দাবি করেন, একটি ভুয়া আইডি থেকে তাদের দুই ভাইয়ের নামে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং হামলাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন শাহজাদপুর উপজেলা দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মনছুর আলী, সাধারণ সম্পাদক রনি খান শান্ত, হাটের পরিচালক নাদিম হোসেন, রবিউল ইসলাম এবং শ্রমিক নেতা খোকন আলী প্রমুখ।
বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা হলে দোকানপাট বন্ধ রেখে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দ্বাবারিয়া গ্রামের হাজী নুর ইসলামের ছেলে আবুল বাশার চেনি (৫৫) এবং মজিবর রহমানের ছেলে জালাল উদ্দিন সরকার (৪৩)।
তারা মূলত হামলার মদদদাতা বলে ওসি জানান। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য জড়িতদের আটক করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শাহজাদপুর থানা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমান জানান, আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অপরাধী বা কিশোর গ্যাংয়ের নেতা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের অবশ্যই আইনের মুখোমুখি করা হবে।














