অনির্দিষ্টকাল নয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে রোববার

আপডেট: April 23, 2026 |
inbound4556910420535927821
print news

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার (২৬ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে বলে ইসরায়েলকে জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন।

ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কান (কেএএন) বুধবার (২২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা তেল আবিবকে নিশ্চিত করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের জন্য যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছিলেন তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হবে।

ইস্তাম্বুল থেকে তারেক শুইরেফের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের আলোচনার পরিবর্তে ইরানের সঙ্গে একটি দ্রুত বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে চাইছেন, তবে রোববারের মধ্যে বড় ধরনের কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘বিভ্রান্তি’ কাজ করছে। তাদের দাবি, তারা ট্রাম্পের অনেক সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কেবল গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া পোস্টের মাধ্যমেই জানতে পারছেন।

বুধবার সকালে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজকে জানিয়েছিলেন, এই যুদ্ধবিরতি তিন থেকে পাঁচ দিন স্থায়ী হতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে অস্পষ্ট এবং তা সম্পূর্ণভাবে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় তিনি শর্ত দিয়েছিলেন, তেহরানকে একটি ‘একীভূত প্রস্তাব’ পেশ করতে হবে এবং সেটি না হওয়া পর্যন্ত এই সাময়িক শান্তি বজায় থাকবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল এবং মার্কিন সম্পদ রয়েছে এমন আঞ্চলিক দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চললেও অনিশ্চয়তা কাটছে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রোববারের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যদি ইরান কোনো গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব না দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আস্থার সংকট প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়াকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার বিষয় হলো, রোববার শেষ হওয়ার আগেই কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসে কি না।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর