আইনজীবী হত্যা মামলায় চিন্ময় দাসকে জামিন দেননি হাইকোর্ট

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।
তার বিরুদ্ধে থাকা আরো চার মামলায় জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছে আদালত।
জামিন প্রশ্নে আগে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।
হত্যাসহ পৃথক পাঁচটি মামলায় চিন্ময় দাসের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার।
ওই দিন আদালতে চিন্ময় দাসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য রোববার দিন ধার্য করেছিল।
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত বছরের ৩০ এপ্রিল হাই কোর্ট থেকে জামিন পান চিন্ময়। কিন্তু এরপরই তাকে আইনজীবী হত্যাসহ এই পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে এসব মামলায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর তার জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছিল হাই কোর্ট।
সবশেষ চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীনের করা প্রায় তিন বছর আগের একটি মামলায় জামিন পান সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় একই বছরের ২৫ নভেম্বর চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাকে কারাগারে নিতে বাধা দেন।
ওই হট্টগোল ও সংঘর্ষের এক পর্যায়ে কাছাকাছি এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
আইনজীবী হত্যার ওই ঘটনায় পরে আলিফের বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় এখন চিন্ময়ের বিচার চলছে।
এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়। এসব মামলায় চিন্ময় দাস কারাবন্দি রয়েছেন।













