কুমারখালীর নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থী উদ্ধার

আসাদুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দুর্গাপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া বুজরুক দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির তিন শিক্ষার্থীকে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজের ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের নিরাপদে ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়।
জানা যায়, গত ১৪ মে ২০২৬ ইং তারিখ বিকেল আনুমানিক ২ টা দিকে কুমারখালী উপজেলার দুর্গাপুর এলাকা থেকে তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। শাওন (১৩), পিতা: সোহাগ, সামিউল আলম তালহা (১২), পিতা: তরুন খান ও শামীম (১২), পিতা: আব্দুর রহিম।
তারা সবাই দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা এবং বুজরুক দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে কুমারখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
যার জিডি নম্বর ৭৪৬, তারিখ ১৪/০৫/২০২৬। পরে কুমারখালী থানা থেকে নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সেখানে বলা হয়, কোনো সহৃদয় ব্যক্তি তাদের সন্ধান পেলে নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর কিংবা কুমারখালী থানায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এসময় ডিউটি অফিসার ও অফিসার ইনচার্জের মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করা হয়। এদিকে নিখোঁজ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিন শিক্ষার্থী ভ্যানে করে কোথাও যাচ্ছিল। বিষয়টি ঘিরে উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে পরিবারগুলোর মধ্যে।
অন্যদিকে খোকসা উপজেলার সাতপাখিয়া এলাকার কয়েকজন তরুণ স্থানীয়ভাবে ক্রিকেট খেলা শেষে কালুখালী এলাকা থেকে ফেরার পথে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন।
ট্রেনে উঠেই তারা তিন কিশোরকে দেখতে পান। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবি ও তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তারা নিশ্চিত হন যে তারাই কুমারখালীর নিখোঁজ সেই তিন শিক্ষার্থী।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোকসা রেলস্টেশনে উপস্থিত হন।
পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্টেশন এলাকায় রাখা হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তিন শিক্ষার্থীকে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে মানবিক ও সচেতন ভূমিকা রাখায় সাতপাখিয়া এলাকার তরুণদের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা।













