বিদ্যুতের দাম বাড়ছে কি না জানা যাবে বুধবার

বিদ্যুতের নতুন দাম নির্ধারণের বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে বুধবার। এরই মধ্যে পাইকারি ও খুচরা দাম এবং সঞ্চালনের চার্জ পুনর্নির্ধারণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সঞ্চালনকারী কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে।
কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ওপর গত ২০ ও ২১ মে গণশুনানি হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন বলেছে, বুধবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) শহীদ প্রকৌশলী ভবনে বিইআরসির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের দাম বাড়বে না কি বর্তমান হারই বহাল থাকবে, সে বিষয়ে জানা যাবে।
সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাইকারি বিদ্যুতের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তখন গড় পাইকারি মূল্য ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।
পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়লে বিতরণ কোম্পানিগুলোর ক্রয় ব্যয়ও বাড়ে। সে কারণে খুচরা পর্যায়ের বিদ্যুতের বিলেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
তবে অতীতে বিইআরসি সব সময় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে একই ধরনের সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে বুধবারের ঘোষণার আগে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়বে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
বিইআরসি বলেছে, পিডিবি পাইকারি ও খুচরা বিদ্যুতের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিবিপিএলসি) সঞ্চালন মূল্যহার এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের আবেদন করেছে।
গণশুনানিতে পিডিবি বলেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয়ের সঙ্গে বর্তমান পাইকারি মূল্যহারের বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ কারণে বিপুল ঘাটতি দূর করতে দাম বাড়ানো দরকার।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ সরবরাহের গড় ব্যয় ইউনিটপ্রতি ১২ টাকা ৯১ পয়সা হতে পারে। বর্তমানে পাইকারি বিদ্যুতের গড় মূল্য ৭ টাকা ৪ পয়সা। এই ব্যবধান কমাতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
পিডিবির হিসাবে, ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ানো হলে বার্ষিক ঘাটতি প্রায় ১৩ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা কমবে। আর ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে ঘাটতি কমবে প্রায় ১৬ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে তাদের আর্থিক ঘাটতি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে শুনানিতে তুলে ধরে পিডিবি।
শুনানিতে অংশীজনরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আপত্তি করে বলেন, বিদ্যুৎ খাতকে মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে দেখা যাবে না; ক্যাপাসিটি চার্জ, সিস্টেম লস, প্রকল্প ব্যয় ও অদক্ষতার বোঝা ভোক্তার ওপর চাপানো যাবে না। তারা দাম বাড়ানোর বদলে কমানোর পথ খোঁজার কথা বলেন।













