রদ্রি নয়, গোল্ডেন বল মেসিরই প্রাপ্য ছিল, দাবি ইব্রাহিমোভিচের

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল না পাওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে ফুটবল অঙ্গনে। এবার সেই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন সুইডেনের কিংবদন্তি ফুটবলার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ।
জ্লাতানের দাবি, বছরের পর বছর মেসিকে নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্সের পরও গোল্ডেন বল না পাওয়া অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে মানুষ বলেছে মেসি নাকি ফিফার আদরের সন্তান। কিন্তু যখন তিনি আরও একটি অসাধারণ বিশ্বকাপ খেললেন, তখন হঠাৎ করেই যেন মাপকাঠি বদলে গেল।’
জ্লাতানের মতে, পুরো টুর্নামেন্টে মেসি গোল করেছেন, অ্যাসিস্ট করেছেন, আক্রমণ গড়ে দিয়েছেন এবং অধিনায়ক হিসেবে দলকে ফাইনালে তুলেছেন। এরপরও যদি তিনি গোল্ডেন বলের যোগ্য না হন, তাহলে আর কী করা উচিত ছিল।
তার ভাষায়, ‘যদি এমন একটি টুর্নামেন্টের পরও রদ্রি গোল্ডেন বল জিতে থাকেন, তাহলে আমাকে বলুন, মেসি আর কী করতেন। গোল করেছেন, অ্যাসিস্ট করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন, সুযোগ তৈরি করেছেন এবং আবারও নিজের দেশকে ফাইনালে তুলেছেন। এর বেশি আর কী করা সম্ভব?’
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, এসি মিলান ও পিএসজি তারকা।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার সেই ফুটবলারের প্রাপ্য, যিনি পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখেন। এটি জনপ্রিয়তা বা রাজনীতির বিষয় হওয়া উচিত নয়। এমন পারফরম্যান্সের পরও যদি মেসি পুরস্কার না পান, তাহলে ফুটবলের মানুষের কাছে এর ব্যাখ্যা থাকা উচিত।’
মেসিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে জালাতান আরও বলেন, ‘মানুষ বলত, ফিফা সবসময় মেসিকে সাহায্য করে। অথচ যখন তিনি পুরস্কারটি পাওয়ার সবচেয়ে বেশি যোগ্য ছিলেন, তখনই তাকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। ফুটবলের পরিহাসও কখনো কখনো অবিশ্বাস্য।’
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই পুরস্কার অন্য একজনের হাতে ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, পুরো টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত প্রভাব বিবেচনায় মেসিই ছিলেন সবচেয়ে যোগ্য। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, পুরস্কার নির্বাচনে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা ও পরিসংখ্যানও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।














