প্রশ্ন ফাঁস মহাপাপ, আটকানোর দায়িত্ব গোটা দেশের : মোদী

ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানের পরের দিন নিট-কাণ্ড নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বললেন, প্রশ্নফাঁস মহাপাপ। তা রোখা গোটা দেশের দায়িত্ব। এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ কথা জানান। বলেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি সাংসদদের বার্তাও নিয়েছেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘শিশুদের উস্কানি দেবেন না, ওদের সঠিক পথ দেখান।’’
সংসদের লাইব্রেরি ভবনের জিএমসি বালাযোগী অডিটোরিয়ামে এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “ভুল পথে চলে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু সঠিক পথে ফিরে আসা অনেক বেশি কঠিন। তাই তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের। সেটাই আমাদের কর্তব্য।”
পরে রিজিজু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী সব পক্ষকে একযোগে এমন একটি ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও সুযোগ না থাকে।’’
নিট-ইউজির প্রশ্নফাঁস-সহ আরও বেশ কিছু বিষয়ের প্রতিবাদে সোমবার সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজধানী। প্রতিবাদীদের দাবি ছিল, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। এই দাবিতে ‘ককরোচ’ দলের প্রতিবাদমঞ্চে যোগ দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। এখনও পর্যন্ত অনশন ভাঙেননি তিনি।
সংসদ ভবনে সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না-দেওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন ওয়াংচুক। সমাজসৈনিক তথা শিক্ষাবিদের হাতে লেখা চিঠি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। সিজেপির সংসদ-অভিযানে পুলিশের ভূমিকার নিন্দা করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে শামিল যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে যে নৃশংস আচরণ করা হচ্ছে, তা দেখে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, অনশন চালিয়ে যাব।’’ কত দিন অনশন চালাবেন ওয়াংচুক? তিনি জানান, যত দিন না পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংসদ ভবনে সাংসদদের দেখা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তত দিন অনশন চলবে। হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দেখা করতে দেওয়ার অনুমতিও চেয়েছেন ওয়াংচুক।
ওয়াংচুক আশাবাদী, কেন্দ্রীয় সরকার ‘শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করবে’। তিনি এ-ও বলেন, ‘‘সংসদ অভিযানে অনেক উস্কানি ছিল, তা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা শান্তি বজায় রেখেছিলেন, তাতে আমি আপ্লুত এবং অভিভূত। আমি সরকার এবং পুলিশের কাছে আবেদন করছি, তারা যেন পড়ুয়াদের সংসদে তাঁদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ করে দেয়।’’
সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের সাংসদেরা। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরাও। এই পরিস্থিতিতে সিজেপি-র সংসদ অভিযান নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। তার পরেও অবশ্য বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন। বৃষ্টির মধ্যে বর্ষাতি পরেই মিছিলে শামিল হন অনেকে। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং ভারতের সংবিধান। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রায় ২০ হাজার মানুষ (যাঁদের অধিকাংশই ছাত্র-যুব) সোমবারের কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন। বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের বাসে চাপিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। এই বিক্ষোভের পর নিট ইউজির প্রশ্নফাঁস নিয়ে মঙ্গলবার প্রথমবার মুখ খুললেন মোদী।















