২০-২৫ আগস্টের মধ্যে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট: August 15, 2026 |
fd 131
print news

আগামী ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সময়সীমার মধ্যেই সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী গত ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পরদিন ১১ আগস্ট তিনি নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। এরপরই মূলত তারেক রহমানের সফরের বিষয়টি সামনে আসে।

ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যমও এই সম্ভাব্য সফরের খবর প্রকাশ করেছে।

নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায়, ‘উভয় দেশই এই দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়ে আগ্রহী ছিল, তবে সময়সূচি মেলানো নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। বিভিন্ন সময়সূচি পর্যালোচনার পর দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে একটি সময় নির্ধারণের কাছাকাছি আছেন।’

সূত্রটি জানায়, ২০-২১ আগস্ট অথবা ২১-২২ আগস্ট-এমন দুটি তারিখ এখন বিবেচনায় রয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় কাজ শুরু করলেই এটি চূড়ান্ত করা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ত্রিবেদী ঢাকায় ফিরেছেন।

আরেকটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমান যোগ দেবেন না বলে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরই মূলত ঢাকা ও নয়াদিল্লি এই দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়ে একমত হয়।

প্রাথমিকভাবে আগস্টের শেষের দিকে সফরের প্রস্তাব দিয়েছিল ঢাকা। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১ সেপ্টেম্বর সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে কিরগিজস্তানে যাবেন বলে ভারত অন্য একটি সময়সূচি চেয়েছিল।

এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও সেপ্টেম্বরের শুরুতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে নিউইয়র্ক যাবেন। সূত্রটি জানায়, এসব কারণেই উভয় পক্ষ ২০ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে এই সফরটি শেষ করতে চেয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দেশের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, এই সফর তা নিরসনে সহায়ক হতে পারে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্কের উন্নতির কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর আবার টানাপোড়েন শুরু হয়। কারণ, এর আগেই ভারত সরকারের কাছে ঢাকা অনুরোধ করেছিল, শেখ হাসিনাকে যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে শেখ হাসিনা ইস্যুর প্রভাব থাকতে পারে।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছিলেন, ঢাকা চায় ভারত যেন তারেক রহমানের সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

গত ১০ আগস্ট নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে ভারতীয় হাইকমিশনার ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

একই দিনে ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর ১১ আগস্ট নয়াদিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন ত্রিবেদী। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশ করে জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা নিতে হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

এর আগে গত ৩১ জুলাই ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ প্রেসিডেন্ট দূত সার্জিও গরের সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন দিনেশ ত্রিবেদী।

দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ভারত সরকার তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফর ছিল মালয়েশিয়ায় এবং এরপর তিনি চীনে সফর করেন।

নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশের এক সাবেক কূটনীতিক বলেন, এমন প্রেক্ষাপটেই ভারত তারেক রহমানের এই সফরের জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। শুধু রাজনৈতিক কারণেই নয়, বরং অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশের এখন জ্বালানি সহায়তা খুব জরুরি। অন্যদিকে ভারতের জন্য তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, কানেকটিভিটি ও বাণিজ্যের স্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ।

এই সাবেক কূটনীতিকের মতে, পানি বণ্টনও একটি বড় ইস্যু। আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। অন্যদিকে ২০১১ সাল থেকে চেষ্টা চালানোর পরও তিস্তা চুক্তির বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত আছে।

তিনি বলেন, ‘হাসিনা ইস্যু রয়ে গেলেও বাণিজ্য ও পানির মতো যেসব বিষয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে।’

সূত্র: ডেইলি স্টার

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর