ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম সফর, বরণ করে নিতে প্রস্তুত জেলার মানুষ

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত নিজ জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আগমন ঘটাচ্ছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
নিজ জেলার সন্তানকে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার পর প্রথম সফরে বরণ করে নিতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষ। আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভাসছে গোটা জেলা।
![]()
রাষ্ট্রপতির এই সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও শহর ও আশপাশের এলাকা বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। প্রধান সড়কগুলোর দুপাশে টাঙানো হয়েছে ব্যানার ও ফেস্টুন, গড়ে তোলা হয়েছে অসংখ্য তোরণ।
![]()
মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে তাকে স্বাগত জানিয়ে সাঁটানো পোস্টার। দীর্ঘদিন পর প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন তার শৈশবের বন্ধু, শিক্ষক, স্বজন এবং সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী, নম্র ও বিনয়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঠাকুরগাঁওয়ের ধুলোবালি ও মেঠো পথে কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোরের সোনালী দিনগুলো।
আজ তিনি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, তাই তার এই ফিরে আসা পুরো ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য এক পরম গৌরব ও আনন্দের বিষয়।
আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁও আসবেন তিনি। সফরসূচি অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছানোর পর তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।
পরে জেলার সেনুয়া কবরস্থানে বাবা মায়ের কবর জিয়ারত করবেন তিনি।জেলা সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে তিনি স্থানীয় সুশীল সমাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন।
এরপর বেলা আড়াইটার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় (বড় মাঠে) নাগরিক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সকালে জেলার বহুল প্রতীক্ষিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিক্তি প্রস্থর স্থাপনের উদ্বোধন করবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া তার পুরোনো স্মৃতিবিজড়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং শৈশবের স্মৃতিঘেরা স্থানগুলো ঘুরে দেখার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন জানান, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সফরটি নিটোল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হয়েছে।
আজ পুরো ঠাকুরগাঁও যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে। জেলার প্রতিটি মানুষের মুখেই এখন এক কথা “আমাদের গর্ব আমাদের সন্তান, রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে আসছে ঘরে।”





