ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের টেন্ডারে অনিয়ম

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের জমি লিজ প্রদানের টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতাদের বাদ দিয়ে কম দরদাতাদের জমি লিজ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে টেন্ডারে অংশ নেওয়া স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুরো টেন্ডার বাতিল এবং নতুন করে দরপত্র আহ্বানের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
লিখিত অভিযোগ ও টেন্ডার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সুগার মিল কর্তৃপক্ষ তাদের আওতাধীন সালন্দর-জামালপুর, মোহন কৃষি খামার, বোচাপুকুর, হাবিবপুর ও কহরপাড়া খামারের বিভিন্ন ব্লকের মোট ৩৭৮.৫০ একর জমি আখ রোপণ ও সাথি ফসল হিসেবে আলু চাষের জন্য লিজ দেওয়ার দরপত্র প্রকাশ করে। নির্ধারিত সময় শেষে ১৪ সেপ্টেম্বর দরপত্র খোলা হয়, যাতে বিভিন্ন এলাকার বিপুল সংখ্যক কৃষক অংশ নেন।
তবে টেন্ডারে অংশ নেওয়া কৃষকদের অভিযোগ, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—একজন দরদাতা সর্বোচ্চ ১০ একর জমি লিজ নিতে পারবেন। কোনো দরদাতা ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র দাখিল করলে মিল কর্তৃপক্ষ তা প্রয়োজন অনুযায়ী কমিয়ে ১০ একরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ রেখেছিল।
কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে, ১০ একরের বেশি জমির জন্য দরপত্র কেনা ও আবেদন করা কৃষকদের সকলকেই সরাসরি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
কৃষকদের প্রশ্ন, ১০ একরের বেশি জমির আবেদন পুরোপুরি বাতিল হওয়ার কথা থাকলে তা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হলো না কেন? অনিয়মতান্ত্রিকভাবে আবেদন বাতিলের ফলে সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়েও বহু কৃষক লিজ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, অনেক ব্লকে সরকারের নির্ধারিত রাজস্বের চেয়ে অনেক বেশি দর হাঁকানো দরদাতাদের বাদ দিয়ে রহস্যজনকভাবে কম দরদাতাদের লিজ দেওয়া হয়েছে।
এর পেছনে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনৈতিক লেনদেন ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এভাবে কম দরদাতাদের লিজ দিলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে বলে জানান কৃষকরা।
টেন্ডারে অনিয়মের প্রতিবাদে গত ১ অক্টোবর ভুক্তভোগী কৃষকরা ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে তারা টেন্ডার প্রক্রিয়ার সকল কাগজপত্র ও মূল্যায়ন নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আবেদন জানান।
একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট লিজ কার্যক্রম স্থগিত রেখে বিতর্কিত টেন্ডারটি বাতিলপূর্বক নতুন টেন্ডার আহ্বানের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক শুভাস চন্দ্র সিংহ জানান, “টেন্ডারে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি। শুধুমাত্র একটি জায়গায় ছোটখাটো ভুল ছিল, বাকি সব প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।”
ঘটনা প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, “কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



